Home দেশের খবর ঢাকা টাঙ্গাইলে একই দেয়ালের ভেতর মসজিদ-মন্দির, মিলেমিশে ধর্মীয় আচার

টাঙ্গাইলে একই দেয়ালের ভেতর মসজিদ-মন্দির, মিলেমিশে ধর্মীয় আচার

0
115

তৌফিকুর রহমান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলে একই স্থানে মসজিদ, মন্দির ও ঈদগাহ মাঠ। এমন চিত্র দেখা যায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চৌধুরি বাড়ী এলাকায়।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, তৎকালীন জমিদার সতিষ চন্দ্র চৌধুরি রায়বাহাদুরের নিজ বাড়িতে (বর্তমান নাগরপুর মহিলা কলেজ) ওঝা ঠাকুরের দুর্গা মন্দির নামে শতাধিক বছর বয়সী একটি মন্দির রয়েছে। তার পাশেই রয়েছে মুসলমানদের মসজিদ ও ঈদহাগ মাঠ। দীর্ঘদিন যাবৎ এভাবেই চলছে তাদের দুই ধর্মের ধর্মাচার। এ যেন জাতীর কাছে এক অনন্য উদাহরণ। ধর্ম যার যার উৎসব সবার, ঠিক এভাবেই হিন্দু মুসলমান মিলে মিশে উৎযাপন করছে তাদের ধর্মীয় উৎসবগুলো।

 

বাংলাদেশ পুজা উৎযাপন কমিটি নাগরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি স্বপন চন্দ্র সাহা নজর২৪ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, মুসলমানদের সাথে আমাদের সৌহার্দ্যপুর্ন সম্পর্ক। তারা আজ অবদি আমাদের ধর্মীয় কাজে বাধা দেয়নি। আমরা তাদের সাথে মিলে মিশে ভাইয়ের মত বসবাস করছি। আমাদের অনুষ্ঠানে তারা মেহমান হয়ে আসে এবং সব ধরণের সহযোগিতা করে।

 

নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি জামে মসজিদের পেশ ইমাম মোঃ আঃ লতিফ বলেন, এই মসজিদটি প্রায় ৩৬ বছর বয়সের। আমি এখানে শুরু থেকেই ইমামতি করছি। আজ পর্যন্ত এখানে কোন সমস্যা হয়নি। আমাদের নামাজের সময় তারা নিজেরাই তাদের ধর্মাচার বন্ধ রাখে। পাচ ওযাক্ত নামাজের সময় সুচি মন্দির কমিটি আগে থেকে নিয়ে নেয়।তারা আমাদের যথেষ্ট সম্মান করে। অতীতেও এখানে কোন ঝামেলা হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না ইনশাআল্লাহ।

 

সেখানকার স্থানীয় মুসলিম লাবু মাহমুদ বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম আমাদের সংঘাত শেখায়নি। যারযার ধর্ম সে সে পালন করবে। সেখানে কাউকে বাধা দেওয়া উচিৎ না। আমরা একটা উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকব।

 

স্থানীয় ছাত্র প্রতিক সাহা বলেন, আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আমার মুসলমান বন্ধুদের নিমন্ত্রন করি। তারা আমাদের অনুষ্ঠানে আসে এবং সাহায্য করে। আবার তাদের ঈদের অনুষ্ঠানে আমরা যাই। আমরা এখানে একে অপরের ভাই ভাই হিসাবে বসবাস করি।

 

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সজ্ঞিত কুমার রায় বলেন, প্রতি বছরের মত এবারো ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here