বিনোদন ডেস্ক- বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান মাদক গ্রহণের দায়ে আটক হয়েছেন। শনিবার (২ অক্টোবর) রাতে মুম্বাইয়ের কর্ডেলিয়া নামের একটি প্রমোদতরী থেকে তাকে আটক করে ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এনসিবি।
শনিবার গভীর রাতে এই খবর সামনে আসার পর থেকেই চাঞ্চল্য দেশজুড়ে। গোয়াগামী প্রমোদতরীর মাদক-পার্টি থেকে আরিয়ানসহ মোট আটজনকে আটক করেছেন এনসিবি। সকলেই মুম্বইয়ের বিত্তশালী পরিবারের সন্তান, আটক আটজনের মধ্যে দুইজন মহিলা। এই ঘটনায় চাপা নিস্তব্ধতা বলিউডের অন্দরে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা’ জানায়, আজ থেকে ২৩ বছর আগে আরিয়ানের জন্ম দিয়েছিলেন শাহরুখ পত্নী গৌরী খান। সেইসময় ছেলেকে নিয়ে শাহরুখ এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়াল রবিবার।
শাহরুখ জানিয়েছিলেন, তিনি চান তাঁর ছেলে সেই সবকিছু করুক যা যৌ’বনে তিনি করতে পারেননি। শাহরুখ রসিকতা করেই এক সংবাদকর্মীকে বলেছিলেন, ‘আমার ছেলে মাদকে আসক্ত হোক, শরীরী সম্পর্কে লিপ্ত হোক, প্রেম করুক। যা আমি আমার তারুণ্যে করতে পারিনি, সে সব কিছু যেন সে করতে পারে’।
শাহরুখ যোগ করেছিলেন তিনি চান, তাঁর ছেলে ‘স্পয়েল্ড ব্রাট’ (বড়লোক বাবার বেগড়ানো সন্তান) হোক, বরং সে ‘ভালো ছেলে’ হলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে। মেয়েদের বাবারা আরিয়ানের নামে অভিযোগ করবে এমনটাই চান তিনি।
২৩ বছর পর সেই কথাই কী সত্যি হতে চলেছে? অন্তত এনসিবির তদন্তে শাহরুখ পুত্রকে আটক করবার পর থেকে তেমনই জল্পনা শুরু হয়েছে।
আরিয়ানের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে এখনও কিছু জানায়নি এনসিবি, শুধু বলা হয়েছে- ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে আরিয়ান খানকে’। ছেলের এই কীর্তি সামনে আসবার পর থেকে মুখে কুলুপ শাহরুখ-গৌরীর।
শনিবার রাতে মুম্বই থেকে গোয়াগামী একটি প্রমোদতরীতে যাত্রী সেজে অভিযান চালিয়ে মাদক পার্টির পর্দা ফাঁস করেন এনসিবির আধিকারিকরা। এনসিবির তরফে জানানো হয়েছে পার্টি থেকে এমডিএমএ, কোকেন, এমডি, চরস-এর মতো নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার হয়েছে ওই পার্টি থেকে। আজ দুপুরে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পেশ করা হবে আটক ৮ জনকে।
শনিবার রাতে মুম্বই থেকে গোয়াগামী একটি প্রমোদতরীতে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেন এনসিবি-র আধিকারিকরা। অভিযোগ, সেখানে মাদক পার্টি চলছিল। আটক হওয়া সেই ১০ জনের মধ্যেই রয়েছেন শাহরুখ-পুত্র। শুধু বলিউড নয়, পুলিশ সূত্রে খবর ফ্যাশন জগতের অনেকেও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। সেই পার্টিতে নিষিদ্ধ মাদক ব্যবহারের খবর পেয়েই সেখানে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
