নজর২৪ ডেস্ক- প্রতারণার অভিযোগে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর গ্রাহকদের উৎকণ্ঠা এখন চরমে। এ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িত ছিলেন কয়েকজন তারকাও।
যদিও তারা দাবি করছেন প্রতারণার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন ইভ্যালি থেকে। এর মধ্যে জনপ্রিয় অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী তাহসান রহমান খান ইভ্যালির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দুই বছরের চুক্তি করেছিলেন। তাহসানের সাবেক স্ত্রী ও মডেল-অভিনেত্রী রাফিয়াদ রশীদ মিথিলাও ইভ্যালির শুভেচ্ছাদূত হয়েছিলেন।
অন্যদিকে অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া মাস কয়েক আগে ইভ্যালিতে যোগ দেন প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে। তিন তারকার ইভ্যালির সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। অনেকে তারকাদের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
অপরদিকে এই তিন তারকাই জানিয়েছেন, যখন থেকে তারা প্রতারণা কিংবা অসামঞ্জস্যতা দেখেছেন ইভ্যালিতে, তখনই তারা নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। গতকাল বিকালে তাহসান রহমান খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সেভাবে বলতে চাই না। কারণ চুক্তি বাতিল করেছি আমি। সেই বাতিলের শর্ত অনুযায়ী কিছু বলতে পারবো না। তবে এতটুকু বলছি, আমি ইভ্যালিতে নেই।
জানা গেছে, তাহসানের সঙ্গে ইভ্যালির বিজ্ঞাপন করার চুক্তি ছিল। তবে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপনে তিনি অংশ নেননি। দুটি ফেসবুক লাইভে অংশ নেন তিনি। এ লাইভগুলো করার পর থেকে যখন নেতিবাচক কমেন্ট আসতে থাকে তার ভক্ত-দর্শকদের কাছ থেকে, তখনই তাহসান চুক্তি বাতিল করেন ইভ্যালির সঙ্গে।
বিষয়টি নিয়ে শবনম ফারিয়া বলেন, নিয়োগ পাওয়ার পর তিন মাস কাজ করলেও কোনো বেতন পাইনি। যোগদানের পর থেকেই জানতে পারি ভেতরে বেতন নিয়ে সমস্যা চলছিল। তাই তিন মাস কাজের পরই গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে আমি চাকরি ছেড়ে চলে আসি। যখন চাকরিতে ছিলাম তখনো ইভ্যালি নিয়ে আমি কোনো স্টেটমেন্ট দেইনি। এখন তো আর চাকরি করছি না, তাই প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে কথা বলতে চাই না।
বিষয়টি নিয়ে রাফিয়াদ রশীদ মিথিলা কলকাতা থেকে বলেন, আমি জীবনে অনেক ব্র্যান্ডের শুভেচ্ছাদূত হয়েছি। এরকম আমার সঙ্গে প্রথমবার ঘটলো। আমি সাইন করার এক মাসের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। তার আগেই আমি কলকাতা চলে এসেছি। কি হচ্ছে সে বিষয়েও আমি পরিষ্কার না। তাই এ নিয়ে বক্তব্য দিতে চাই না।
সূত্র বলছে, চুক্তি বাতিলের নন-ডিসক্লোজার শর্ত অনুযায়ী এটি নিয়ে আপাতত কিছু বলতে পারছেন না তাহসানের মতো মিথিলাও! বলা যায়, তুমুল তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করেও চুপ থাকতে বাধ্য হয়েছেন দু’জনে। তবে মিথিলা এটুকু নিশ্চিত করেছেন, ইভ্যালির সঙ্গে তিনি আর নেই।
আরেকটি বিশ্বস্ত সূত্র বলতে চাইছে, তাহসান ও মিথিলা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছেন নেতিবাচক কিছু না বলার শর্তে। ফলে তারা এর সঙ্গে আর কোনোভাবেই যুক্ত নেই, আবার শর্ত পালনের জন্য কিছু বলতেও পারছেন না।
উল্লেখ্য, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করেছে র্যাব। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অর্থ আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা করেন আরিফ বাকের নামে একজন ভুক্তভোগী।
এদিকে ইভ্যালির প্রধান দুই কর্তা গ্রেফতারের পর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির অফিস অনির্দিষ্টকালের জন্য আবার বন্ধ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখন বাসায় থেকে অফিসের কাজ করবেন বলে শনিবার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির ফেইসবুক পাতায় ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে ইভ্যালি বলেছে, ‘হোম অফিস’র মধ্যেও তাদের সব কার্যক্রম ‘স্বাভাবিক’ সময়ের মতো চলবে।





