Home আলোচিত দেরিতে হলেও পরীমণির পাশে এখন নানা সংগঠন

দেরিতে হলেও পরীমণির পাশে এখন নানা সংগঠন

0
78

বিনোদন ডেস্ক- ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমণি গ্রেপ্তারের পর অনেকটাই নিরব ছিলো বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। তবে দেরিতে হলেও মুক্তির দাবিতে সরব হতে শুরু করেছেন অনেকেই। বিভিন্ন ব্যনারে হচ্ছে মানববন্ধন-বিক্ষোভ। দ্রুত মুক্তিরও দাবি জানাচ্ছেন নানা সংগঠনের প্রতিনিধি।

 

রোববার (২২ আগস্ট) শাহাবাগে পরীমনির ন্যায় বিচারের দাবিতে নাগরিক সমজের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এসময় পরীমণির সাথে রাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন বক্তারা।

 

এদিকে পরীমণির ঘটনা আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। এক অনলাইন আলোচনায়, অবিলম্বেই তার মুক্তির দাবি জানানো হয়।

 

মাদক মামলায় আবারও জামিন আবেদন করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। মহানগর দায়রা জজ আদালতের জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। এর শুনানি হবে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর।

 

গত ৪ আগস্ট গ্রেপ্তারের পর কয়েক দফা রিমান্ড শেষে বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আছেন পরীমণি।

 

আরও পড়ুন-

পরীমণির পক্ষে প্রথমবার রাজপথে নামলেন শিল্পী-নির্মাতারা

 

বিনোদন ডেস্ক- মাদকের মামলায় গ্রেপ্তার চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে এক মানববন্ধনে শামিল হলেন চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পীরা।

 

গত ৪ অগাস্ট ঢাকার বনানীর বাসায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর তাকে তিন দফায় রিমান্ড শেষে শনিবার কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

শনিবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘পরীমনির জন্য ন্যায়বিচার চাই’ ব্যানারে এক সমাবেশে দাঁড়ান চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, চিত্রনাট্যকারসহ নানাজন।

 

পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর শিল্পী-নির্মাতাদের মধ্যে কেউ কেউ তার ন্যায়বিচার চেয়ে ফেইসবুকে সোচ্চার থাকলেও রাজপথে দেখা যায়নি; শিল্পী-নির্মাতাদের একাংশের তরফ থেকে প্রথমবারের মতো ‘শিল্পীর পাশে’ প্লাটফর্মের আয়োজনে ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে এলেন অনেকে।

 

মানববন্ধনে নাট্যশিল্পী আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশে লুটপাট ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে। এর বিপরীতে একজন মানুষকে পাওয়া গেছে, যাঁর ওপর সবধরনের নির্যাতন চালানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উপাদান হচ্ছে নারী। তিনি যদি মডেল কিংবা অভিনেত্রী হন, সেটা আরও ভালো।

 

তিনি বলেন, ‘এই সুযোগই যেন প্রশাসন নিচ্ছে। এর অন্তরালে কারা আছেন, আমি জানি না। আমি নিশ্চিত, ভীষণ শক্তিশালী একটি পক্ষ আছে, যারা এগুলো করাচ্ছে। এটি ভীষণভাবে অমানবিক একটি প্রক্রিয়া।’

 

পরীমনিকে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে তিন–তিনবার রিমান্ডে নেওয়া এবং একই সঙ্গে ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ জন্য উসকে দেওয়া একটি বেআইনি কাজ বলে উল্লেখ করেন চলচ্চিত্র পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম। তিনি বলেন, ‘আইনের রক্ষকেরা আইন ভঙ্গ করেছেন। পরীমনি একজন অভিনয়শিল্পী এবং বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা পরীমনির জামিন চাই। আইন সবার জন্য সমান হোক।’

 

অভিনয়শিল্পী ঝুনা চৌধুরী বলেন, ‘একজন শিল্পী কোনো সমস্যায় পড়লে তাঁর পাশে দাঁড়ানো অন্য শিল্পীদের দায়িত্ব। আমরা সব সময়ই নারীকে পণ্য হিসেবে প্রদর্শনের বিরুদ্ধে। এই মুহূর্তে নারী শিল্পীদের নিয়ে এ ধরনের মনোভাব প্রশাসন থেকে শুরু করে অন্য সব জায়গায় দেখা যাচ্ছে। আমরা এর নিন্দা জানাই।’

 

তিনি বলেন, ‘যেসব শিল্পীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, তাঁরা আদালতে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই যে ধরনের কটূক্তি ও অশ্রাব্য কথাবার্তা বলা হচ্ছে, সেগুলোরও নিন্দা জানাই। যেকোনো শিল্পীর প্রতি অবিচার ও অনাচারের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকব।’

 

অভিনয়শিল্পী ও মঞ্চ নির্দেশক মোহাম্মদ বারী বলেন, ‘একটি ন্যায্য দাবির পক্ষে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। পরীমনির মূল পরিচয় তিনি একজন শিল্পী। তাঁকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হলো এবং যে প্রক্রিয়া চলছে, তা জনমনে সংশয় সৃষ্টি করছে।’ তিনি বলেন, দেশে একটি লুটেরা ধনিক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। এই গোষ্ঠীর লোভের বহিঃপ্রকাশ এই পরিস্থিতি। এই ধরনের মামলায় কখনোই তিনবার রিমান্ডে নেওয়ার রেকর্ড পাওয়া যায় না। সংশয়টা সেখানেই।

 

মানববন্ধনে শিল্পী-নির্মাতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন নোমান রবিন, গাজী মাহবুব, শহিদ উন নবী, অপরাজিতা সঙ্গীতা, উম্মে হাবিবা প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here