নজর২৪ ডেস্ক- পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপন ও কোরবানি উপলক্ষে ৮ দিনের জন্য জনসাধারণের চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে সরকার। মধ্যরাত থেকে ২৩শে জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত চলাফেরার ওপর কোনো প্রকার বিধিনিষেধ কার্যকর থাকছে না। ফলে চালু হয়েছে গণপরিবহন, খুলছে শপিংমল।
গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে ঈদ উদ্যাপন করতে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। গণপরিবহন চালুর আগেই মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে চেপে বাড়ির দিকে ছুটছে তারা।
আগামী শনিবার থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে কোরবানির পশুর হাট। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তের পর সামনের দিনগুলোতে করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য অধিদফতর।
অধিদফতর বলছে, জুনে যত রোগী শনাক্ত হয়েছিল, সে পরিমাণ শনাক্ত হয়েছে জুলাইয়ের ১৪ দিনে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর এ গতি আরও বাড়বে যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। এ অবস্থায় পশুর হাট না বসানোর সুপারিশ করেছিল অধিদফতর।
অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতর মনে করে বিধিনিষেধ শিথিল করায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।’
তিনি আরও জানান, ‘জুনে এক লাখ ১২ হাজার ৭১৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। জুলাইয়ের ১৪ দিনে আমরা এত রোগী পেয়ে গেছি। এই মাসের আরও ১৬ দিন বাকি আছে।’
‘স্বাস্থ্যবিধি ও প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও দুই সপ্তাহ এমন মৃত্যু চলতে পারে। এমনকি এ প্রবণতা টানা তিন সপ্তাহও গড়াতে পারে।’ বলেন অধ্যাপক রোবেদ আমিন।
বিধিনিষেধ শিথিল নিয়ে আপত্তি রয়েছে জাতীয় কারিগরি পরার্মশক কমিটিরও। কমিটির একাধিক সদস্য শঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছেন, এই শিথিলতার সুযোগে সংক্রমণ কোথায় যাবে তা আঁচ করা মুশকিল।
এদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে ১৯টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। এ ধরনের হাট না বসানোর সুপারিশ করেছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর।
অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম গত ৫ জুলাই বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর সুপারিশ করছে কোরবানির হাট ফিজিক্যাল না করে অনলাইনে করতে।
গতবছর পশুর হাট বসায় সংক্রমণ বেড়ে গিয়েছিল বলে মনে করিয়ে দেন তিনি। সেটার কারণে পরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বেশ সময় লেগেছিল।
গতবছরও ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট না বসানোর সুপারিশ করেছিল কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক বলেন, ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট অন্য ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে বেশি আগ্রাসী। তারপরও মানুষ লকডাউন মানতে চায় না। এ কারণেই সংক্রমণ বাড়ে। তার প্রমাণ হাসপাতালের রোগীর সংখ্যা। প্রায় সব হাসপাতালে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী, আইসিইউ বেডও কম।’
‘স্বাস্থ্য বিভাগ সবসময় বলে এসেছে, স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে হাসপাতালে জায়গা দেওয়া যাবে না।’ এমনটা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ঈদের অনুভূতির কথা মেনে এমনটা করেছে। সকলেই জানে দেশে করোনার পরিস্থিতি কেমন। কিন্তু মানুষের দাবিতে, দোকানদারের দাবিতে সরকার লকডাউন খুলে দিলো। এখন মানুষের দায়িত্ব হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘লকডাউন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একা দেয় না। আরও ১০টা মন্ত্রণালয় আছে। সবারটা মিলিয়ে একটা সিদ্ধান্ত সরকার জানিয়ে দেয়। আর সরকারকে তো আমরাই কেবল পরামর্শ দিচ্ছি না, অন্য মন্ত্রণালয়ও দিচ্ছে।’





