‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী-সিইসিকে মনে হয় মেলায় হারিয়ে যাওয়া দুই ভাই’

নজর২৪, ঢাকা- স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাকে মেলায় হারিয়ে যাওয়া দুই ভাই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

 

শনিবার (১২ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় স্মরণ মঞ্চের উদ্যোগে ‘কবি ফররুখ আহমদের বসতভিটা আক্রান্ত : ঐতিহ্য রক্ষায় করণীয়’ এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও নির্বাচন কমিশনের দুজন ব্যক্তি আছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও সিইসি এই দুজনের ছবি যদি পাশাপাশি রাখেন, তাহলে মনে হবে তারা মেলায় হারিয়ে যাওয়া দুই ভাই। দুজনের সমান দায়িত্ববোধ, সমান কথাবার্তা বলেন। স্ট্যান্ডার্ড মোটামুটি কাছাকাছি।’

 

আলোচনা সভায় মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আজকে সবকিছুই রাজনীতিকরণ করা হচ্ছে। যে রাজনীতির ক্ষেত্রে শুধু একজনের নাম একাকার হয়ে গেছে। সেখানে তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী ও জেনারেল ওসমানী নেই। নিজেদের ঘরের মধ্যে অস্বীকার করে, তাহলে অন্যরা কেন স্বীকার করবে?’

 

তিনি বলেন, ‘এই দেশে এমন বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস-চ্যান্সেলর আছেন, যিনি শিক্ষকতা ছেড়ে যুবলীগের সভাপতি হতে চান। আমরা এ ধরনের ভাইস-চ্যান্সেলর দেখেছি, যিনি বিদায়ের আগে রাত ৩টা ৩০ মিনিটে ক্লাস নেন। আগে আকাম-কুকাম যা করে ভাইস চ্যান্সেলরের শেষ সময়ে রাত তিনটার সময় ক্লাস নিয়েছে।

 

‘আমরা এমন ভাইস-চ্যান্সেলরও দেখেছি, যার সঙ্গে টেন্ডার নিয়ে ছাত্রলীগের তুমুল ঝগড়া হয়— সে অডিও ফাঁস হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয় নাই। এই হলো আমাদের শিক্ষার সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য সংস্কৃতি।’

 

যুবদলের সাবেক এই সভাপতি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে এবং অধিকার আদায়ে উদ্ভুদ্ধ করা এ দুটো আলাদা জিনিস। এটা বর্তমান সরকারকে কারা বোঝাবে? সেই বোঝানোর জন্য যে লেখনীর প্রয়োজন ছিল। যে লেখকের প্রয়োজন ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কবি ফরুক আহমদ।’

 

ফররুখ আহমদ জাতীয় স্মরণ মঞ্চের সভাপতি আ হ ম মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কবি ও সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার।

 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যেদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *