Home ফিচার ধারের বাজেটে বিশাল ঘাটতি: ঋণের সুদই ২টি পদ্মা সেতুর সমান

ধারের বাজেটে বিশাল ঘাটতি: ঋণের সুদই ২টি পদ্মা সেতুর সমান

0
132

নজর২৪ ডেস্ক- ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৬৪ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বেশি।

 

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট হচ্ছে ৫০তম এ বাজেট। আলোচিত এই বাজেটে অনুদানসহ ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ১১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। যা জিডিপির ৬ দশমিক ১ শতাংশ। অনুদান বাদ দিলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।

 

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি খরচ হবে ঋণের সুদ পরিশোধে, যার পরিমাণ ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটে প্রস্তাবিত ব্যয়ের ১১.৩৬ ভাগ।

 

সুদ পরিশোধে ব্যয় করা এই অর্থ দেশে বাস্তবায়নাধীন পদ্মা সেতু নির্মাণ খরচের দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে প্রমত্তা পদ্মার দুই পাড় সংযুক্ত করা সেতুর সার্বিক নির্মাণ খরচ হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

 

প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ২০২১-২২ অর্থবছরের ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে ঘাটতি ব্যয় সামলাতে হবে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬.২ শতাংশ।

 

এই ঘাটতি অর্থ পূরণে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা ঋণ করতে হবে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ অন্যান্য খাত থেকে। ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ঋণ করা হবে বিদেশি উৎস থেকে। বাকি ঘাটতি পূরণ করা হবে বিদেশি অনুদানের মাধ্যমে।

 

ঘাটতি পূরণে ঋণের সুদ পরিশোধ ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ খরচ দিতে হবে ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় হবে ৬ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা।

 

বিদেশি উৎসের তুলনায় অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বেশি। কিন্তু সরকার বিদেশি উৎস থেকে আশানুরূপ ঋণ না পাওয়ায় বেশি সুদ দিয়ে অভ্যন্তরীণ ঋণেই বেশি ভরসা রাখছে। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে এবার বিদেশি ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রাও বেড়েছে।

 

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বাজেটব্যবস্থা জন্মলগ্ন থেকেই ঘাটতিনির্ভর। রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিরাট খরচ জোগানো এবং সেই খরচ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থ বিদ্যমান রাজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে উঠে না আসায় প্রতিবছরই প্রস্তাবিত বাজেটে আয়-ব্যয়ের একটা বড় ফারাক তৈরি হচ্ছে, যাকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়।

 

সরকারকে ঘাটতির অর্থ জোগাতে ঋণ করতে হয়। আর সেই ঋণের জন্য গুনতে হয় মোটা অঙ্কের সুদ। আবার ঘাটতি মেটাতে এই বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়ার কারণে প্রতিবছর সরকার বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে যে বরাদ্দ রাখে, তারও বড় অংশই চলে যাচ্ছে এই সুদ পরিশোধজনিত খাতে।

 

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের প্রায় ৬০ ভাগ ব্যয় হবে পরিচালন বা অনুন্নয়ন খাতে। এর পরিমাণ ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ১৩ হাজার ৩২০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৩৭ হাজার ৮১২ কোটি টাকা বেশি।

 

এদিকে চলতি বা বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে সুদ পরিশোধ খাতে সুদ ভর্তুকি রাখা হয় ৬৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা, যা ছিল মোট বাজেট ব্যয়ের ১১.২৩ শতাংশ। তবে সংশোধিত বাজেটে এই ব্যয় আরও বাড়ানো হয়েছে। এতে সুদ খাতে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। তা সত্ত্বেও সংশোধিত বাজেটের হিসাব থেকেও প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য সুদ খাতে ব্যয়ের খরচ ৪ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা বেশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here