Home জাতীয় চাপের কারণে শহরে গণপরিবহন চালু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চাপের কারণে শহরে গণপরিবহন চালু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0
136

নজর২৪, ঢাকা- করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান লকডাউনের মধ্যে বিভিন্ন মহলের চাপে গণপরিবহন রাজধানী ও জেলার মধ্যে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

 

বৃহস্পতিবার (৬ মে) দুপুরে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় করণীয় এবং অক্সিজেন সংকট ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান লকডাউন বা বিধিনিষেধ ঈদুল ফিতর পর্যন্ত বাড়ানোয় ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিভিন্ন মহলের চাপে গণপরিবহন রাজধানী ও জেলার মধ্যে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এসব গণপরিবহন বন্ধ রাখা হবে।’

 

বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণের কারণে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে মাসে সংক্রমণ বেড়েছে, সেই মাসে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি প্রায় ২৫ লাখ মানুষ বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছে।

 

‘বিয়ে-শাদি, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ওয়াজ মাহফিল ও হেফাজতের দৌড়াদৌড়ি দেখলাম, যে কারণে সংক্রমণ বেড়ে গেল। হাসপাতালে রোগী ভর্তি বেড়ে গেল। অক্সিজেনের চাহিদাও বেড়ে গেছে।’

 

ঈদকে কেন্দ্র করে দোকানপাট-শপিংমলগুলো থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আবারও বাড়ার আশঙ্কা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শপিংমল দোকানপাটগুলোতে যেভাবে ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়েছে। এতে বলা যায়, দেশে সংক্রমণ আবারও বাড়বে। যার প্রভাব আমরা ১৬ মের পরে দেখতে পারবো।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটা ঈদে কিছু জামাকাপড় না কিনলে কি হলো? কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে এভাবে কেনাকাটার কারণে ঈদের আনন্দটা যদি আনন্দ একটা ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয়, তাহলে বিষয়টা কেমন হবে? এতে করে শুধু ওই ব্যক্তিই নয়, তার পরিবারকেও ভয়ঙ্কর বিপদে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।’

 

তিনি বলেন, ‘সরকার বাধ্য হয়ে মার্কেট খুলে দিয়েছে, কিন্তু যাওয়া না যাওয়া তো আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমরা যদি না যাই তাহলেই তো হয়। এই জিনিসগুলো আমাদের নিজেদের ওপর নির্ভর করে সবকিছু সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কিন্তু আমরা দেখছি, যেভাবে মহিলারা মার্কেটে যাচ্ছে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে, এতে বিপদ অবশ্যই বাড়বে।

 

তারপরও আমরা খুলে দিয়েছি, আমরা বলে দিয়েছি মার্কেটে মাস্ক ছাড়া কেউ ঢুকবে না। ঢুকলে জরিমানা করা হবে। তবুও এ কাজগুলোকে কেউ করছে না, কেউই মানছে না। আল্লাহ না করুক, আমাদের জন্য যেন বড় কোনো বিপদ না আসে।

 

জাহিদ মালেক বলেন, হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসায় আমাদের ১৬ হাজার শয্যা রয়েছে। কিন্তু রোগী যদি আমাদের ৫০ হাজার বা এক লাখ আসে, তাহলে তো আমরা হাসপাতালে জায়গা দিতে পারবো না। কোনো দেশ বা কোনো সরকারই এটা পারবে না। তাই আমাদের নিজেদেরই সজাগ হতে হবে। দেশকে ভালো রাখতে হবে, নিজেদের পরিবারকে ভালো রাখতে হবে। এর চাবিকাঠি কিন্তু আমাদের নিজেদের হাতেই। সরকার শুধু বলে দিতে পারবে, কিন্তু আমাদেরই মানতে হবে।

 

অনুষ্ঠানে বিপিএমসিএ সভাপতি এম এ মুবিন খানের সভাপতিত্বে অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য সেবা অধিদফতপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. টিটো মিঞাসহ আরও অনেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here