নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠি: ঝালকাঠি আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না করায় বিএনপি সমর্থক এ্যাড. শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত এড. নূর হোসেনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা নাটকীয় রুপ নিয়েছে।
ঘটনার জের ধরে লাঞ্চিত এ্যাড. নূর হোসেন দলীয় এ্যাড. শাহজাহানের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচারনে দায়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছে।
সমিতির সভাপতি এ্যাড. আব্দুল মান্নান রসুল জরুরী ভিত্তিতে অভিযোগ তদন্তের জন্য সম্পাদক ভিজিলেন্স এ্যাড. মোঃ মাহাবুবুর রহমান তালুকদারকে দায়িত্ব প্রদান করেন। সে অনুযায়ী গত মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) অভিযুক্ত এ্যাড. মোঃ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ‘কেনো গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবেনা’ আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তার জবাব দেয়ার জন্য শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
লাঞ্চিত এ্যাড. নূর হোসেন অভিযোগে উল্লেখ করেন, আগামী ২৮ জানুয়ারি ঝালকাঠি আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে এ্যাড. নূর হোসেনের নামে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেও গত ১৭ জানুয়ারি তিনি তাতে স্বাক্ষর করেনি এবং কারো মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়নি। গত ১৮ জানুয়ারি সোমবার সকালে এ্যাড.এওয়াইএ সাইয়েদের চেম্বারের সামনে এ্যাড. মোঃ শাহজাহান কেনো মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেনি ও জমা দেয়নি জানতে চেয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে।
তখন ‘সভাপতি প্রার্থী স্বাক্ষর করেনি তবে আমি কেনো স্বাক্ষর করবো বলে’ জবাব দিলে এ্যাড. মোঃ শাহজাহান হুমকি দিয়া মারতে আসলে এ্যাড.এওয়াইএ সাইয়েদ তাকে ধরে নিয়ে গেলে পরবর্ততে তাকে দেখিয়া দেয়ার হুমকি দেয়। এহেন অসদাচরনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া ও সুবিচারের জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে লাঞ্চিত বিএনপি নেতা এ্যাড. নূর হোসেন জানিয়েছেন।
এদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দলীয় প্যানেলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে ইচ্ছুক হয়েও শেষ মূহূর্তে দুই বিএনপি নেতা আইনজীবী মনোনয়ন পত্রে স্বাক্ষর না দেয়ার ঘটনায় জেলা বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপি সমর্থক কয়েকজন আইনজীবী অভিযোগ করেছে, উক্ত দুই বিএনপি নেতা আইনজীবী মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পূর্ব মূহূর্তে বেকে বসে আওয়ামী আইনজীবী প্যানেলকে বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় বিজয়ের সুযোগ করে দিয়েছে। দুই দলীয় আইনজীবীকে দিয়ে এ ঘটনা ঘটানোর নেপথ্য ঝালকাঠি বিএনপির নিয়ন্ত্রণ থেকে ছিটকে যাওয়া এক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অনুঘটকের ভূমিকায় ছিল বলে তারা অভিযোগে জানিয়েছে।





