সবার হয়ত মনে আছে রাজধানীর কদমতলীতে ২০২১ সালের জুনে ‘ট্রিপল মা র্ডার’র কথা। সারা দেশব্যাপী এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলো। সেই ঘটনার ছায়া অবলম্বনে রায়হান রাফী নির্মাণ করলেন ওয়েব ফিল্ম ‘ফ্রাইডে’!
ইতোমধ্যে ওয়েব ফিল্মটি ওটিটি প্লাটফর্ম বিঞ্চে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির পর থেকেই নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা প্রশংসায় ভাসছেন। বিশেষ করে মুনা চরিত্রে অভিনয় করে তমা মির্জা ফের নিজের জাত চিনিয়েছেন।
নৃশংস হ’ত্যাযজ্ঞ, লোমহ র্ষক এই ঘটনায় নির্মিত ওয়েব ফিল্মটিতে তমা মির্জা তার ক্যারিয়ারে সেরা অভিনয় করেছেন। ওয়েব ফিল্মটিতে এই অভিনেত্রীর গ্রে শেড চরিত্রটা এতটা দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই অভিনেত্রীকে ওটিটি কুইন বলে আখ্যায়িত করছেন।
নায়িকা থেকে অভিনেত্রী হওয়ার চেষ্টায় আরও একবার সফল হয়েছেন তমা মির্জা। রক্তমাখা হাতে ভাত খাচ্ছে, হেসে উল্লাসে মেতে উঠছে মুহুর্তে, গুন গুনিয়ে গান গাচ্ছে। নিজের ভেতরে বিন্দুমাত্র অনুসচনা দেখা যায়নি তার।
একের পর এক খুনের সময় তার ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন, চোখের চাহনি, ডায়লগ ডেলিভারি আপনাকে নিঃসন্দেহে মুগ্ধ করার মত ছিল। এক কথায় বলতে গেলে তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন একদম।
সংবাদমাধ্যমকে তমা মির্জা বলেন, ‘সত্য ঘটনার এই চরিত্র ফুটিয়ে তোলা ছিল ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। আমি পরিচালকের কাছে কৃতজ্ঞ, তাঁর সহযোগিতা না পেলে এটা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।
তমা জানান, এক বছর আগেই পরিচালকের কাছ থেকে গল্পটি শুনেছেন তিনি। এর পর থেকেই মুনা হওয়ার মিশনে নামেন। পত্রপত্রিকা এবং টেলিভিশনের খবর থেকে যতটা জানতে পেরেছিলেন, সেটাই ছিল সম্বল।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ, চিকিৎসক, প্রেমিকা কিংবা বউ—এসব চরিত্র আমাদের সবারই কমবেশি চেনা। ওই ধরনের চরিত্র করে আমরা অভ্যস্তও বলা যেতে পারে। কিন্তু যে খু’নি চরিত্রে অভিনয় করেছি, এটা তো আমার জন্য একেবারে অচেনা। বাংলাদেশেও এ ধরনের কাজ আগে হয়নি।’
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেত্রী বলেন, ‘পরিচালক আমাকে থ্রিলার এবং সাইকোপ্যাথ মুভি দেখার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমি শুনিনি। আমার কাছে মনে হয়েছে, কল্পনায় কতটা কী করতে পারি, সেটা দেখি। তবে পরিচালক আমাকে কমফোর্ট জোন দিয়েছেন। আর ছবিটির প্রথম দৃশ্য থেকে শেষ দৃশ্যটা যেমন, আমরা শুটিংও সেভাবে করেছি। এতে চরিত্রের ভেতর ঢুকতেও আমার জন্য সহজ হয়েছে।’





