নজর২৪, ঢাকা- ভাইরাল হওয়ার নেশায় চেপে বসেছিল তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসানকে। এজন্য করতেন বিতর্কিত মন্তব্য। এ নেশাই শেষ পর্যন্ত কাল হলো তার। ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেওয়ার পর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ পেয়েছেন সোমবার। আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যেই ছাড়তে হবে প্রতিমন্ত্রীর পদ।
তবে আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ পদত্যাগ করেননি। একই সময় পর্যন্ত তিনি তাঁর দপ্তরেও আসেননি। তাঁর দপ্তরের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, গতকাল সোমবার মুরাদ হাসান চট্টগ্রামে গেছেন। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনো কথা হয়নি। মুরাদ হাসান এখন কোথায় আছেন, তা তিনি জানেন না।
প্রতিমন্ত্রী আগের দিন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেও সোমবার দিনভর নিজেকে আড়াল করে রাখেন। রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে তার যোগ দেয়ার কথা থাকলেও তিনি তাতে যাননি। এমনকি এখন পর্যন্ত তার মোবাইলও বন্ধ রেখেছেন।
জানা গেছে, ধানমন্ডির বাসা থেকে তিনি সোমবার বেলা ১১টার দিকে বের হন। ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও ফেরেননি।
ধানমন্ডি ১৫ নম্বর সড়কে মুরাদ হাসানের বাসায় গিয়ে মঙ্গলবার এ তথ্য জানা গেছে। বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য ও সিকিউরিটি গার্ডরা জানান, বাসা থেকে বের হওয়ার পর একদিন পেরিয়ে গেলেও ফেরেননি তথ্য প্রতিমন্ত্রী।
সিকিউরিটি গার্ডরা জানান, বাড়ির চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে একবছর ধরে বসবাস করছেন মুরাদ। একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় তার অফিস।
সিকিউরিটি গার্ড সুমন বলেন, ‘স্যার কালকে বের হইছেন, এরপর আর আসেন নাই। কোথায় গেছেন জানি না।’
একই কথা জানান বাড়িতে থাকা পুলিশের একজন সদস্য। তিনি বলেন, ‘রোববার রাতে বাসায় আসেন মুরাদ হাসান। সোমবার বেলা ১১ টার দিকে বের হয়েছেন। এখনও ফিরেননি।’
অশালীন, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ায় মুরাদ হাসানকে আজকের মধ্যে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর করা অশ্লীল মন্তব্যকে ঘিরে কয়েক দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হচ্ছিল। এর মধ্যেই গতকাল সোমবার ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর ফোনালাপের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে একজন চিত্রনায়িকার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নোংরা ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে তাঁকে হুমকিও দেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।





