নজর২৪ ডেস্ক- ছোট বোন শেখ রেহানাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্রামে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গণাস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে বীর উত্তম মেজর হায়দার আলী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ পরামর্শ দেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘পীরগঞ্জে আপনার শ্বশুর বাড়ি। আপনার ছেলে ওখানকার ভোটার। আপনার তো নৈতিক দায়িত্ব তাদের খোঁজ-খবর নেওয়া। কিন্তু সেখানে আপনি যাননি। অনুগ্রহ করে আজকেই আপনি সেখানে যান। প্রথম দিন যদি কুমিল্লায় যেতেন, তাহলে পীরগঞ্জের ঘটনা ঘটতো না।’
‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি দেশের জন্য অনেক খেটেছেন। আপনি মানসিক এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। আপনি এত পরিশ্রম করেছেন যে, যার ফলাফল শরীরে এসেছে। আপনার এখন বিশ্রাম দরকার। দয়া করে শেখ রেহানার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বিশ্রামে যান’— বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিনই ওয়াজ-মাফহিল করেন, কেউ কিছু করলে রেহাই পাবা না। কিন্তু আমরা যদি নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাইবান্ধার বিগত দিনের ইতিহাস দেখি, তাহলে তার (প্রধানমন্ত্রীর) ওই হুমকি-ধামকি ওয়াজ-মাহফিল ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। তার প্রশাসন মেয়েদের ফুটবল খেলতে দেয় না। আহমাদিয়াদের ঘরের ভেতর মিটিং করতে দেয়নি। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনো বক্তব্য নাই। তার ওয়াজ মাহফিলের কথা একটাই- কঠিন শাস্তি দেব, কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। এসব বলে তিনি পুলিশের আয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। অর্থাৎ যাকে পার তাকে ধর।’
‘শুধু জাফরুল্লাহকে ধইরো না, জেলখানায় মারা যেতে পারে। তার বিরুদ্ধে মাছ চুরির মামলা দাও। কোর্টে দাঁড়িয়ে থাকুক ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ওটা কিন্তু জেলে যাওয়ার চাইতেও খারাপ। আমি হাঁটতে পারি না, প্রতিদিন কোর্টের দরজায় চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আমাকে তারা জেলে যাওয়ার চাইতে বেশি কষ্ট দিয়েছে। এর একটি মাত্র কারণ আমি সত্য কথা বলি’— বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
নোয়াখালীর চৌমুহনীর ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘ভাতের প্লেট ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমাকে এই ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। রাজাকার বা পাকিস্তানি বাহিনীরা আসলেও আমরা ভাতের প্লেট ফেলে পালিয়ে যেতাম না। সঙ্গে করে নিয়ে যেতাম।’
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন আমাদের দেশের নোয়াখালীর সূর্য সন্তান ওবায়দুল কাদের আঙুল নাড়িয়ে নাড়িয়ে গীত গেয়ে থাকেন। তার গীতের বিষয়বস্তু একই জিনিস। এটা বিএনপি করেছে, জামায়াত করেছে আর তারা পুতপবিত্র। তারা কোনো কিছু করেন নাই। তারা খালি আঙুল নাড়িছে ও বই দেখে দেখে বক্তৃতা দিয়েছে। কিন্তু ওবায়দুল কাদেরের একবারও নোয়াখালী ঘুরে আসার কথা মনে হয় নাই। তার মনে হয়নি হিন্দু-মুসলমান সব তো আল্লাহর সৃষ্টি। তাদের অবস্থাটা দেখে আসি। তিনি যাননি। গেলে দেখতেন তাদের আমলে কত বড় ইসলাম বহির্ভূত কাজ হয়েছে। ইসলামে কোথাও বলা হয়নি অন্য ধর্মের উপর হস্তক্ষেপ করো।
তিনি বলেন, কুমিল্লায় প্রথম দিন যে ঘটনা ঘটল রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নৈতিক দায়িত্ব ছিল ওবায়দুল কাদের সাহেবের সেখানে যাওয়া।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদের ছোট ভাই ডা. নূরুজ্জামান, ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান। উপস্থিত ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য আক্তার হোসেন, হাবিবুর রহমান রিজু প্রমুখ।
