নজর২৪ ডেস্ক- পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে শ্রমিকদের আগামী ১৮ জুলাই থেকে ছুটি ঘোষণা করছেন পোশাক কারখানার মালিকরা। আগামী ২১ জুলাই ঈদুল আজহা। সে উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকবে ২০ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট তিন দিন।
করোনার এ সময়ে ঈদে শ্রমিকরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে বাড়ি যেতে পারেন, সেজন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি ছুটির পাশাপাশি শ্রমিকদের বার্ষিক ছুটিও যোগ করে দিচ্ছেন তারা।
নিটওয়্যার কারখানা মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর পরিচালক ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘আমরা ১৮ জুলাই থেকেই কারখানা শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দিয়ে দিচ্ছি, যাতে তারা দল বেধে বাড়ি না যায়।’
তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন, ‘দেশে করোনার অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় পোশাক শ্রমিকের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে সরকার ঘোষিত ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি দিচ্ছে কারখানাগুলো। তারপরও আমরা চাই শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুক।’
তিনি বলেন, ‘এমনিতে সরকার ঈদ উপলক্ষে তিনদিন ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে গার্মেন্টস কারখানাগুলোর ছুটির বিষয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর শ্রম ভবনে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বৈঠক করবেন। এরপর বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।’
এ বিষয় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘ঈদে সরকারি ছুটি তিন দিনের বেশি দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তবে যদি কোনো কারখানা মালিক ও শ্রমিক সমন্বয় করে ছুটি বাড়ান, তাহলে বাড়াতে পারেন।’
এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন।
সোমবার (১২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন ও সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত এ আহ্বান জানান।
যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রত্যেক ঈদ উৎসবেই দেখা যায়, বেতন-বোনাস নিয়ে মালিকরা সমস্যা সৃষ্টি করে। ঈদের দিনেও শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের জন্য কারখানায় অবস্থান করতে হয়। অনেক কারখানায় ১৮/১৯ তারিখে বেতন-বোনাস পরিশোধের কথা।
তারা বলেন, এর ফলে দেখা যাবে, ব্যাংকের ঝামেলার কথা বলে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস অনিশ্চিত করে তুলবেন মালিকরা। তাই ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেই সকল কারখানায় সম্পূর্ণ বেতন-বোনাস পরিশোধ করার আহ্বান জানান তারা।
