Home দেশের খবর রাজশাহী ভয়াবহ বিপর্যয়ে দেশ: এবার বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন তরুণরা

ভয়াবহ বিপর্যয়ে দেশ: এবার বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন তরুণরা

0
69

নজর২৪ ডেস্ক- দেশজুড়ে কোভিড সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই ৩০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কোভিডে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার সংখ্যা বাড়ছে। মহামারির আগের দুই ঢেউয়ের তুলনায় বর্তমানে তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

 

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ ডা. ফাতেমা বলেন, “নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র দূরের কথা, তারা আগে থেকে হাসপাতালেই ভর্তি হন না। আর তাই, উচ্চ চাপের নেজাল ক্যানুলার মতো বিভিন্ন যন্ত্রে যুক্ত করা হলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।”

 

“অবস্থা কতোটা জটিল সেটা তরুণরা তখনই অনুধাবন করেন, যখন নাড়াচাড়ার কারণে অক্সিজেন প্রবাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেই তারা হাঁপাতে শুরু করেন,” বলেন তিনি।

 

স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের মতে, সংকটাপন্ন রোগীদের মধ্যে বয়স্ক ছাড়াও তারা কম বয়সী রোগীদের সমানভাবে ভুগতে দেখছেন। এমনকি, তরুণ এই রোগীদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা আগে থেকে অন্য কোনো জটিলতায় ভোগার ইতিহাসও নেই।

 

প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য অবস্থা ভালো বলে মনে হলেও ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী রোগীদের ফুসফুস ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অধিকাংশ রোগী শেষ পর্যন্ত সেরে উঠলেও, অনেকের ক্ষেত্রেই চিকিৎসা দিয়েও শেষ পর্যন্ত কোনো লাভ হচ্ছে না।

 

প্রবীণ রোগীদের মতো এই তরুণ রোগীদের অধিকাংশই সীমান্তবর্তী জেলা এবং ঢাকার বাইরে থেকে আসছেন।

 

অপেক্ষাকৃত তরুণ রোগীদের মধ্যে কোভিডের মারাত্মক উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাম্প্রতিক প্রবণতা নিয়ে চিন্তিত চিকিৎসকরা। কোভিডের অধিক সংক্রামক ডেল্টা প্রকরণের ফলে তরুণ এই জনগোষ্ঠী ভুগছে বলে ধারণা করেন তারা।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, মাত্র এক মাস আগে ২১ থেকে ৫০ বয়সীদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা মাত্র ৪৮ জন হলেও গত এক সপ্তাহে ২৫৪ জনের মৃত্যু ঘটে।

 

দৃঢ় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন তরুণ জনগোষ্ঠী করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম- এ ধরনের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করছে নতুন ঢেউ, বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অ্যানেসথেসিয়া, এনালজেসিয়া ও ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম. আখতারুজ্জামান।

 

বুধবার, বিএসএমএমইউয়ের ২০টি আইসিইউ শয্যার রোগীদের মধ্যে ১৮ জনই ছিলেন ঢাকার বহিরাগত। এদের মধ্যে, চারজনের বয়স ৩০ বছরের নিচে বলে জানান তিনি।

 

“গড়ে, ১০ থেকে ১২ শতাংশ রোগীর বয়স অনেক কম। অথচ, আগের দুই ঢেউয়ের সময় আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেবল বয়স্ক রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে এসেছি,” বলেন ডা. আখতারুজ্জামান।

 

রোগীদের সুস্থ হয়ে ওঠার সময়সীমা আগে সাত থেকে ১০ দিন হলেও এখন তা দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত গড়ায় বলে জানান তিনি।

 

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে মৃত ও শনাক্তের সংখ্যা বাড়বে বলে জানান চিকিৎসকরা। ঢাকায় যদি আর বেশি মানুষ আক্রান্ত হতে থাকেন, তাহলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা শীঘ্রই ভেঙে পড়বে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here