এবার শুভেন্দুকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলেন মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয় নিশ্চিত হলেও দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় নিয়ে প্রাথমিকভাবে তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। তবে ভোট গণনা যত এগোচ্ছে মমতার জয়ের সম্ভাবনা তত বাড়ছে।

 

গণনার একাদশ রাউন্ডের শেষে ৩ হাজার ৩২৭ ভোটে নন্দীগ্রামে এগিয়ে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আসনে এখন ছয় রাউন্ড গণনা বাকি।

 

এর আগের গণনাগুলোতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে মমতাকে পরাজয়ের শঙ্কায় ফেলেন একসময়ে তারই প্রধান অনুগামী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু মমতার চেয়ে সাত হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন।

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে হারতে পারেন, এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে আলোচনা তৈরি হয় পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে এই প্রশ্নে কোনো দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব নেই। যদিও নির্বাচনে হেরে গেলেও মমতার মুখ্যমন্ত্রী হতে কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই।

 

সকালে নন্দীগ্রামের ব্লক-১ এর ভোট গণনায় এগিয়ে যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে সব ধর্মের মানুষদেরই বাস। তৃণমূল সূত্রগুলোর দাবি ব্লক-২ এর ভোট গণনা শুরু হতেই চিত্র পাল্টাতে থাকে। দ্রুত আগাতে থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই এলাকার ভোট গণণা চলছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩ হাজার ৩২৭ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

২০১১ সালে শুভেন্দু ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডান হাত। কৃষকদের ভূমি অধিকারের পক্ষে আন্দোলন করে পরের কয়েক বছর তিনি এই আসন থেকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত হন। কিন্তু এবারে তিনি যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে।

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে হারাতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সাবেক মুখ্যমন্ত্রী’ লেখার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন তিনি।

 

শুভেন্দুকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে তার শক্ত ঘাঁটিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নেন মমতা। কলকাতার ভবানীপুরের নিজ আসন ছেড়ে দেন তিনি। মমতা বলেন, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি সেখান থেকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর কখনোই এই আসন ছাড়বেন না তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *