গণমাধ্যমের ওপরে দায় চাপালেন মির্জা আব্বাস

নজর২৪ ডেস্ক- নয় বছর আগে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুম ইস্যুতে বিধ্বংসী বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসার একদিন পর সংবাদ সম্মেলেনে একে উল্টে গেলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

 

গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃতি, যার যেটা প্রয়োজন, সেই অংশটুকু ব্যবহার করে মনের মাধুরি মিশিয়ে লেখার অভিযোগ আনার পর প্রশ্নোত্তর পর্বে এসে বিএনপি নেতা একেক সময় একেক কথা বলতে থাকেন।

 

একবার তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীকে সরকার গুম করেনি-এমন কথা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়ে তিনি বলতে পারেন না।

 

এটি রেকর্ডে সাংবাদিকরা এই কথা বললে পরক্ষণেই বলেন, তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন।

 

গণমাধ্যমকর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স- এটি ‍উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এটা তার বক্তব্যের ভেতরে আরোপিত ছিল, সেটা বুঝে নেয়া উচিত ছিল।

 

অন্তর্ধানের আগের রাতে বিএনপি কার্যাালয়ের নিচে একজনের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল বলে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেই প্রসঙ্গ তুললেও প্রথমে তিনি বলেন, এ কথা বলেননি। পরে বলেন, ঝগড়া হতেই পারে, এটা কোনো ধর্তব্যের বিষয় না।

 

এ রকম আরও নানা ধরনের দ্বিমুখী বক্তব্য দেয়া মির্জা আব্বাস এমনও অভিযোগ করেছেন যে, গণমাধ্যম তাকে টার্গেট করেছে। কেন করেছে, সেটা তিনি বুঝতে পারছেন না।

 

মির্জা আব্বাস বলেন, কাটপিস করে ইচ্ছেমত আমার বক্তব্যকে ব্যবহার করা হয়েছে। কী কারণে করা হয়েছে আমি জানি না। এমন কোনো কথা বলিনি, যার জন্য আমাকে বিব্রত হতে হবে। সরকার বা আওয়ামী লীগ ইলিয়াস আলীকে গুম করেনি- এমন কথা আমি বলিনি। আমার কথা বিকৃত করে লেখা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, ইলিয়াস আলী গুমের জন্য বিএনপির কিছু নেতাকর্মী দায়ী। এই কথা আমি বলেছি, কেউ প্রমাণ করতে পারবে? আমার কথা বিবৃত করা হয়েছে। বিএনপির নেতারাই ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে- এমন বক্তব্য আমি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দেওয়া সম্ভব? অর্থাৎ নিজের মাথার ওপর নিজেই বোমা ফাটানো। এখানে টুইস্ট করা হয়েছে।

 

আজ সকালে একদল সাংবাদিক ইলিয়াস আলী বাসায় গিয়েছিল উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, তার স্ত্রীকে রীতিমতো চার্জ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রশ্ন করে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছে। এটা কেন? এমন কি ঘটনা ঘটল যে বিষয়টা নিয়ে এত মাথা ঘামাতে হবে। গত ৯ বছর ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর একটা পত্র-পত্রিকায় এটি লেখাও হয়নি। কোনো দিবস পালন হয়নি। আজ হঠাৎ করে সেই ইলিয়াস আলীকে নিয়ে সাংবাদিকদের মাথা খারাপ হয়ে গেল? আমি কোনো সাংবাদিককে দোষ দিচ্ছি না।

 

তিনি আরও বলেন, যদি আমার সত্য বক্তব্যটা তুলে ধরতেন, তাহলে ভালো হতো। আমি এমন কোনো কথা বলিনি যার জন্য বিএনপির নেতাকর্মী, জাতির কাছে বিব্রত হতে হবে।

 

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, আমার গতকালের বক্তব্য যারা শুনেছেন তারা হয় তো বুঝতে পারেননি। আমি দুঃখিত যে, আমি বুঝাতে পারিনি। আবারও বলছি যে, গতকালের বক্তব্যের কাটপিসকে তুলে ধরে সামনের অংশ, পিছনের অংশ বাদ দিয়ে মাঝখান থেকে যার যেখানে যতটুকু প্রয়োজন নিয়ে মনের মাধুরী দিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এর সঙ্গে আমার দল ও আমি কোনো দায়-দায়িত্ব বহন করি না। যারা বলছেন, যারা লিখেছেন এর দায় তাদের।

 

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি যা বলেছি সংগঠনের ভালোর জন্য বলেছি। কাউকে ক্ষতি করার জন্য বলিনি। যা বলেছি, ইলিয়াসকে স্মরণ করে বলেছি। ইলিয়াস আমাদের মধ্যে ছিলেন, আমাদের মাঝে আসবেন– সেই কথা স্মরণ করেই বলেছি। দয়া করে আর টুইস্ট করে নিউজ করবেন না। আমাকে কেন সরকার বা কিছু সাংবাদিকের টার্গেট করা হলো, বুঝতে পারছি না। এতো লোক থাকতে ইলিয়াসকে নিয়ে আমাকে টার্গেট করার এই লক্ষণটা কিন্তু ভালো না। এটাকে অশুভ লক্ষণ বলে মনে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *