চট্টগ্রামে বেতনের দাবিতে রাস্তায় নেমে পুলিশের গুলিতে ৫ শ্রমিক নিহত

নজর২৪, চট্রগ্রাম- চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডমারা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নির্মাণাধীন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চার শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত আরও ২০ জন।

 

শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনা এলাকায় শ্রমিকরা বেতনভাতার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

আহত বেশ কয়েকজনকে বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। নিহতরা হলেন- শুভ (২৩), মো. রাহাত (২৪), আহমদ রেজা (১৯) ও রনি হোসেন (২২)।

 

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আজ সকালে বেতন-ভাতা নিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের তর্ক হয়। এক পর্যায়ে প্রকল্প কর্মকর্তারা থানায় জানান। পরে পুলিশ এলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। শ্রমিকদের পাশাপাশি এলাকাবাসীও সংঘর্ষে যোগ দেয়।’

 

বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক মেহেদী হাসান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাদের বেতন-ভাতা সময় মতো না দেওয়ায় আমরা বিক্ষোভ করছি। পুলিশের গুলিতে অনেক শ্রমিক আহত ও কয়েকজন নিহত হয়েছে।’

 

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষের পুলিশের গুলিতে চার শ্রমিক নিহত হয়েছেন। কয়েকজন পুলিশ সদস্যও গুরুতর আহত হয়েছেন।’

 

চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকালও গণ্ডামারা ইউনিয়ন এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। এই বিষয়ে বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা বিক্ষোভের এক পর্যায়ে আজ হামলা চালিয়েছে। শ্রমিকরা পুলিশের ওপর হামলা চালালে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। এতে চার শ্রমিক নিহত হয়েছে। তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করে।’

 

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

বাঁশখালীতে পুলিশের গুলিতে নিহত শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে ৫

 

বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডমারা এলাকায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। তিন পুলিশসহ আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন অন্তত আরও ২১ জন। প্রাথমিকভাবে হতাহতদের নামপরিচয় জানা যায়নি।

 

শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনা এলাকায় নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকরা বেতনভাতার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন।

 

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম ভুইয়া জানান, আহত অবস্থায় ১৩ শ্রমিক ও ৩ পুলিশ সদস্যকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা আরও এক শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন। এই নিয়ে ওই ঘটনায় মোট পাঁচজনের প্রাণ গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *