Home অন্যান্য ‘জোশের কারণে হুঁশ ছিল না, এবারের মতো আমারে মাফ করে দেন’

‘জোশের কারণে হুঁশ ছিল না, এবারের মতো আমারে মাফ করে দেন’

0
127

নজর২৪ ডেস্ক- রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক কথাবার্তা এবং রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে শিশুবক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানীকে আটক করার পর হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‌্যাব।

 

জিজ্ঞাসাবাদে মাদানি বলেন, ‘কী আর বলমু স্যার, জোশের কারণে অনেক সময় হুঁশ থাকে না। ওয়াজের মঞ্চে উঠলে শরীরে একটা জোশ চলে আসে। তখন আর নিজেরে ধরে রাখা যায় না। অনেক কিছু না বুঝেই বলে ফেলছি। আর এমন হবে না। এবারের মতো আমারে মাফ করে দেন।’

 

এক অনলাইন নিউজ পোর্টালকে টেলিফোনে এটি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম।

 

খর্বকায় ও শিশুতোষ কণ্ঠের অধিকারী হওয়ায় রফিকুল ইসলাম মাদানিকে অনেকে ‘শিশুবক্তা’ বলে মনে করলেও তিনি নিজে দাবি করেছেন, তিনি মোটেও শিশু নন। তার বয়স ২৬ বছর বলেও তিনি দাবি করেন।

 

এর আগে ২৫ মার্চ মতিঝিল এলাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী মিছিল ও ভাঙচুরের সময় রফিকুল ইসলাম মাদানিকে আটক করেছিল রমনা থানা পুলিশ। সেখানেও তিনি মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিলেন, আর এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না।

 

সে কথা না রাখার কারণ জানতে চাইলে মাদানি র‌্যাবকে বলেন, পুলিশের আটকের বিষয়টি তিনি ‘সিরিয়াসলি’ নেননি। ভেবেছিলেন, জনপ্রিয়তার কারণে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে না।

 

মাদানি নেত্রকোণার একটি মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে ঢাকার বারিধারার জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করলেও কোরআন চর্চার চেয়ে তার জনপ্রিয়তার দিকে ঝোঁক বেশি বলে মনে করেন জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্বে থাকা র‌্যাবের একাধিক কর্মকর্তা।

 

তারা বলেন, ওয়াজে তার আলোচনার মূল বিষয় থাকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু। যেকোনো ওয়াজে তার উদ্দেশ্যই থাকে উপস্থিত মুসল্লিদের উত্তেজিত করে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করা।

 

জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল ইসলাম মাদানির একটি কথিত বিয়ে বিষয়েও জানতে পারে র‌্যাব। খায়রুল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিকে তিনি তার এক আত্মীয়কে গোপনে কলেমা পড়ে বিয়ে করেন। তাদের এই বিয়ের কোনো কাবিননামা করা হয়নি। দুই পরিবারের কেউই এই বিয়ের কথা জানতেন না।

 

মামুনুল হকের রিসোর্ট-কাণ্ডের পর ভীত হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে রফিকুল ইসলাম মাদানি তার মা ও পরিবারের স্বজনদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ফুলপুরের রহিমগঞ্জে ওই নারীর বাড়িতে যান। কিন্তু মাদানিকে পছন্দ না হওয়ায় ওই নারীর বাবা বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

 

জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম মাদানীরা পাঁচ ভাই। রফিকুল সবার ছোট। তার বাবা মৃত শাহাবুদ্দিন। মাদানী নেত্রকোনার মালনী এলাকায় জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে ঢাকায় চলে আসেন। সেখানে লেখাপড়া করার সময় ‘শিশু বক্তা’ হিসেবে আলোচিত হন।

 

রফিকুল ইসলামের বড় ভাই রমজান মিয়া বলেন, রফিকুল মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ধর্মীয় সভা করে বাড়িতে আসেন। রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে গেলে রাত আড়াইটার দিকে র‌্যাব পরিচয়ে কিছু লোক প্রায় ১৯টি গাড়ি নিয়ে তাদের বাড়ি ঘেরাও করে। সেখান থেকে রফিকুল ইসলাম মাদানী, তার বড় ভাই বকুল মিয়া (৩৭) ও তার দূর সম্পর্কের ভাতিজা এনামুল হককে (২৮) তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বকুল মিয়াকে রাতেই ছেড়ে দেওয়া হলেও অন্য দু’জনের খোঁজ তাদের জানা নেই।

 

তিনি দাবি করেন, রফিকুল ইসলাম মাদানীর ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোনসহ তাদের পরিবারের ছয়টি মুঠোফোন জব্দ করে নিয়ে যায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here