নজর২৪ ডেস্ক- বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মার্চে প্রথমবার ঢাকা সফরের কথা ছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এরদোয়ান আসছেন না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অফ প্রটোকল কর্মকর্তা এম আমানুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কী কারণে এরদোয়ান আসছেন না, সেটি জানাতে পারেননি তিনি।
এর আগে ঢাকাস্থ তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তফা ওসমান তুরান জানিয়েছিলেন, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসছেন তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান।
আমানুল হক জানিয়েছেন, এবার আসতে না পারলেও পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে এরদোয়ান ঢাকা সফর করবেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি ইদানীং বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। করোনাকালে বাংলাদেশকে চিকিৎসা উপকরণ উপহার দেয়ার পাশাপাশি ডিসেম্বরের শেষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলবুৎ সাবুসুলুও সফর করে গেছেন।
ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন ইস্যুতে ধর্মভিত্তিক দলগুলো যখন উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছিল, তখন তুরস্কের একটি ঘোষণা আসে। তুর্কি সরকার সে সময় জানায়, তাদের অর্থায়নে আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর এবং ঢাকায় আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আতাতুর্কের ভাস্কর্য বসবে। দেশে গৃহহীনদের ঘর করে দেয়ার একটি প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটির সরকার।
এর মধ্যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বা মুজিববর্ষের উদযাপনে এরদোয়ানকে আমন্ত্রণ জানানো হলে দেশটির পক্ষ থেকে একাধিকবার জানানো হয়, যেকোনো একটি আয়োজনে আসবেন তুর্কি রাষ্ট্রপ্রধান।
দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালা সাজানো হচ্ছে। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ১০ দিনের বিশেষ আয়োজন এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরও চূড়ান্ত হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারী ও মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ আসছেন উদযাপনে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, জাপানের প্রধানমন্ত্রী, চায়নিজ প্রেসিডেন্ট, ইউনেস্কোর মহাপরিচালক, পোপসহ অনেকেই ভিডিও বার্তা পাঠাবেন।
তবে এরদোয়ান আসছেন কি আসছেন না, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এতদিন কিছু জানানো হয়নি।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর গণভবন থেকে ভার্চুয়াল কনফারেন্সে তুরস্কের আঙ্কারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এরদোয়ানকে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। এতে মুজিববর্ষে আসতে না পারলেও ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধানকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়।
ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ সফরে আসা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। দুজনই নিশ্চিত করেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বা মুজিব শতবর্ষের যেকোনো একটি আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন এরদোয়ান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অফ প্রটোকল এম আমানুল হক বলেন, ‘উনি (এরদোয়ান) এখন আসছেন না।’
এরদোয়ান কোনো ভিডিও বার্তা পাঠাবেন কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘উনি এখন ভিডিও মেসেজও দিচ্ছেন না, পরবর্তীতে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন।’





