ইসির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতিকে চিঠিঃ মুখে কুলুপ এঁটেছেন সিইসি নূরুল হুদা

নজর২৪ ডেস্ক- গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছেন দেশের ৪২ বিশিষ্ট নাগরিক। এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা হলেও চিঠির বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করছেন না প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

 

এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রোববার (২০ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে অফিস করেছেন সিইসি। তবে সাংবাদিকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চেষ্টা করেও তার কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নিতে পারেননি।

 

রোববার দুপুরে সিইসির সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর বিকেল ৩টার দিকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, ‘এটা হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এগুলোর কোনোটার ভিত্তি আছে বলে আমি মনে করি না। এরকম একটা বিষয় উপস্থাপন করা সুধীজনদের জন্য বিবেচনাপ্রসূত নয়।’

 

তবে সেই বক্তব্য ছিল এই কমিশনারের ‘নিজস্ব মতামত’। সে কারণে কমিশনের পক্ষ থেকে সিইসির বক্তব্য নিতে গণমাধ্যমকর্মীরা অপেক্ষা করতে থাকেন।

 

সন্ধ্যায় অফিস শেষ করে সিইসি চলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। ইসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অন্যকোনো নির্বাচন কমিশনারও কথা বলছেন না।

 

ইসির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক ইসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছি। গত ১৪ ডিসেম্বর এই চিঠি দিয়েছি। ইসির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নির্বাচনে কারচুপি-জালিয়াতিসহ বেশকিছু অভিযোগ আনা হয়েছে।’

 

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন, ‘কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ সংশ্লিষ্ট অসদাচারণ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অনেকগুলো গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন করে তদন্ত করার জন্য বাংলাদেশের ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষ থেকে ১৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে একটি আবেদন দাখিল করা হয়।’

 

চিঠি দেয়া বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, এম হাফিজউদ্দিন খান, ড. আকবর আলী খান, সুলতানা কামাল, আলী ইমাম মজুমদার, ড. হামিদা হোসেন, অধ্যাপক মইনুল ইসলাম, খুশী কবির, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. শহিদুল আলম, সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ড. সি আর আবরার, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রমুখ।

 

চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার নামে ২ কোটি টাকার অনিয়ম, নির্বাচন কমিশনের কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৪ কোটি ৮ লাখ টাকার অসদাচরণ ও অনিয়ম, নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনজন কমিশনারের তিনটি গাড়ি ব্যবহারজনিত আর্থিক অসদাচরণ ও অনিয়ম।

 

এছাড়াও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- ইভিএম কেনা ও ব্যবহারে গুরুতর অসদাচরণ ও অনিয়ম, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে গুরুতর অসদাচরণ ও অনিয়ম, ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ) সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে গুরুতর অসদাচরণ ও অনিয়ম, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গুরুতর অসদাচরণ ও অনিয়ম, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গুরুতর অসদাচরণ ও অনিয়ম, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গুরুতর অসদাচরণ ও অনিয়ম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *