রিজভীর কাছ থেকে এ ধরনের চিঠি আশা করিনি, আমি হতবাক: মেজর হাফিজ

নজর২৪, ঢাকা- দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে ‘সরকার পরিবর্তন আন্দোলন’র সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পাওয়া কারণ দর্শানো (শোকজ) নোটিসের জবাব দিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

 

শনিবার বেলা ১১টায় বনানীর নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে শোকজের জবাব দেন তিনি।

 

লিখিত জবাবের শুরুতেই মেজর হাফিজ বলেন, ‘আমি একজন যুদ্ধাহত, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। বিজয়ের মাসে বুদ্ধিজীবী দিবসে অসৌজন্যমূলক ভাষায় অসত্য অভিযোগ সম্বলিত কারণ দর্শানোর নোটিস পেয়ে হতবাক হয়েছি। ২৯ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আমার যোগদানের তারিখ, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার তারিখ, আমার নামের বানানসহ অনেক ভুলই রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে দৃশ্যমান।’

 

তিনি বলেন, ‘বিএনপিতে যোগদানের পূর্বেই আমি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছিলাম। বিগত ২২ বছর ধরে দলের অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছি। দলের ভাইস চেয়ারম্যানকে একজন যুগ্ম মহাসচিব (আদিষ্ট না হয়েও) এমন কঠিন, আক্রমণাত্মক ভাষায় কৈফিয়ত তলব করায় অত্যন্ত অপমানিত বোধ করছি।’

 

‘এখানে প্রটোকল ও সৌজন্যের ব্যত্যয় ঘটেছে। ব্যক্তি রুহুল কবির রিজভী একজন ভদ্র, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী নেতা। তার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। তার কাছ থেকে এ ধরনের চিঠি আশা করিনি।’

 

তিনি বলেন, অতীতে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত স্মরণীয় দিবসগুলোতে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হতো। গত দেড় বছরে এ ধরনের অনুষ্ঠানেও দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আমাকে ডাকার প্রয়োজন বোধ করেননি। বোঝাই যাচ্ছে, বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনঠাসা করে রাখার জন্য একটি মহল সক্রিয় রয়েছে।

 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আরো বলেন, বরাবরই আমি বিএনপিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেছি। জেল থেকে বেগম জিয়া নির্দেশনা দিয়েছিলেন দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার। আমি সেটি করেছি। কিন্তু তারাই আমার বিরুদ্ধে বলেন, আমি সংস্কারপন্থী, আমি ভাঙার পক্ষে। এর চাইতে দুঃখজনক, লজ্জাজনক কিছু হতে পারে না।

 

তিনি বলেন, আমি পদত্যাগ করছি না। আমি যে ব্যাখা দিয়েছি সেটি কিভাবে তারা নেয় তা দেখতে চাই। যদিও ভেবেছিলাম পদত্যাগ করব, আমার সাবেক কলিগ-বন্ধুরাও বলেছিলেন পদত্যাগ করতে। কিন্তু আমার নেতাকর্মীরা আমাকে অনুরোধ করেছেন যাতে পদত্যাগ না করি। তাদের অনুরোধের কারণে আমি পদত্যাগ করলাম না।

 

দলের পাঠানো নোটিশের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর  বলেছেন, ‘আমার বক্তব্য স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হোক। বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে যদি দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যেকোনও শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত আছি। আমি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি সর্বদাই শ্রদ্ধা পোষণ করি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *