নজর২৪ ডেস্ক- করোনায় ক্ষ’তিগ্র’স্তদের জন্য সরকার ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে বিদেশ থেকে ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকার (২৫ কোটি মার্কিন ডলার) ঋণ নিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি বিদ্যুৎ-রেলসহ আরও চার খাতের জন্যও ঋণ নেয়া হচ্ছে। এতে বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক মুদ্রায় এই ঋণের অঙ্ক ৫৪০ কোটি মার্কিন ডলার।
জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণ দিচ্ছে চীনের এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট ব্যাংক, দি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কর্মাশিয়াল ব্যাংক, চায়না ডেভেলমেন্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (এসসিবি) ও সুমিটোমো মিতশু ব্যাংকিং কর্পোরেশন (এসএমবিসি)। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘অনমনীয় ঋণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির (এসসিএনসিএল)’ সভায় পৃথক ঋণের প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা যায়, ক’ঠিন শ’র্তের ঋণের ঝুঁকি হ্রাস এবং নমনীয়তা পরীক্ষা ও অনুমোদনের জন্য অনমনীয় ঋণবিষয়ক স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। ‘হার্ড টার্ম লোন কমিটি’ বাতিল করে নতুন এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ঋণের ৩৫ শতাংশ বিদেশি ঋণ হলে সেক্ষেত্রে অনমনীয় ঋণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা ও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। এ কমিটি ঋণ গ্রহণের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিয়ে থাকে।
সূত্র জানায়, করোনাজনিত ব্যয় মেটাতে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার, রেলের কেনাকাটার জন্য ২৮ কোটি ডলার, বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নের জন্য ২৫৪ কোটি ডলার, পটুয়াখালীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ১৫৫ কোটি মার্কিন ডলার ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নে ৭৮ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার। ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের আগে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ফি বাবদ সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার (৪ কোটি ১০ লাখ ডলার) ব্যয় কমানো হয়েছে।
এসসিএনসিএল বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, যে কোনো ঋণ চুক্তি অনুমোদনের জন্য অর্থায়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে বিদেশি ঋণের প্রস্তাব এসসিএনসিএল (স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোন) কমিটিতে দ্রুত পাঠাতে হবে। প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর পর ঋণ নেয়ার প্রস্তাব কমিটিতে উপস্থাপন করা হলে ফাইন্যান্সিং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে।
এসসিএনসিএল’র কার্যবিবরণী সূত্রে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব প্যাকেজের আওতায় নেয়া কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকার ঋণ নেবে সরকার। এর মেয়াদ ১৫ বছর। অর্থ সচিব (সিনিয়র) আবদুর রউফ তালুকদার বৈঠকে বলেন, কোভিড মোকা’বেলায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এ ঋণ বেশ উপকারে আসছে। তবে অর্থায়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
এছাড়া পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি নেটওয়ার্ক টেকসই প্রকল্পের আওতায় ৭৬৪ কিলোমিটার নতুন লাইন সঞ্চালন নির্মাণ, ২২৫ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন সংস্কার, বিভিন্ন ক্ষমতার ৪১টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ ও ৫৮টি উপকেন্দ্র সংস্কার এবং ৭টি বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং ফেসিলিটি নির্মাণ করা হবে। এজন্য ঋণ নেয়া হচ্ছে ৬ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা (৭৮ কোটি মার্কিন ডলার)। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।
ঋণ প্রস্তাব সম্পর্কে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতেমা ইয়াসমিন বলেন, এই প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ পরিবাহিত করার লাইনের সঙ্গে সংযোগ থাকা এবং চীন সরকারের পক্ষে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে গত বছর বিষয়টি চুক্তি ছিল। এজন্য সারসংক্ষেপে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে চলতি বছরের ৭ জুন ঋণ প্রস্তাব চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। ২০ বছর মেয়াদে এই ঋণের সুদ হার ২ শতাংশ।





