সবসময় বাবাকে হারানোর ভয়ে থাকতো রাসেল: প্রধানমন্ত্রী

নজর২৪, ঢাকা- শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ছোট্ট রাসেল কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবা কারাগারে। আমাদের সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে গিয়ে ও আব্বাকে বাড়ি চলো বাড়ি চলো বলে কান্নাকাটি করতো। আব্বার সঙ্গে দেখা করে ফিরে আসার দিনটি রাসেলের খুব কষ্টে কাটতো। সারাটা দিন ওর চোখে পানি থাকত।’

 

রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স, ঢাকা, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণ এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবসময় বাবাকে হারানোর ভয়ে থাকতো রাসেল। আব্বা বাসায় থাকলে খেলাধুলার ফাকে একটু পর পর সে আব্বাকে দেখে যেত। বাবার পাশে সে ছায়ার মতো ঘুরে বেড়াতো। এভাবেই সে বড় হয়েছে। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছর বাবাকে সে কাছে পেয়েছিল। তারপর তো সবই শেষ।’

 

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘এরপর এলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার পর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হলো। আমার মাসহ পরিবারের সবার সঙ্গে ছোট্ট রাসেলও বন্দী ছিল। সেই বন্দীদশা থেকে এক সময় কামাল-জামাল চলে গেল যুদ্ধে। এ অবস্থায় সব সময় রাসেলের চোখে পানি থাকতো। কিন্তু সে দুঃখ আড়াল করতো। তার সেই নীরব কান্না কখনো প্রকাশ করতো না।’

 

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘রাসেলের স্বপ্ন ছিল সে সেনাবাহিনীর অফিসার হবে। গ্রামে গেলে বাচ্চাদের সে প্যারেড করাতো। রাসেলের ইচ্ছায় শিশুদের কাপড় দিতে হতো। ওর মনটা ছিল খুব উদার।’

 

শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটা করার একটা উদ্দেশ্যই ছিল যে এদেশের শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা। দেশপ্রেমিক করা, দেশের সেবার করার মনোভাব যেন তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে। তারা যেন সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠে, সেদিকে চিন্তা করেই এই সংগঠনটা তৈরি করা হয়েছিল। আজকে সারাদেশব্যাপী এই সংগঠনের অনেক ছেলেমেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। অনেকে রাজনীতিতেও তারা যথেষ্ট অবদান রেখে যাচ্ছে। সেই ছোট্ট শিশু থেকে তারা এখন অনেকেই বড় হয়েছে। অনেকেই বিভিন্ন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছে।‘

 

শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিশুরা দেশপ্রেমিক হবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। মানুষের সেবা করবে এবং নিজেদেরকে উপযুক্ত নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলবে। আধুনিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত হবে। আমি জানি করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ। এটা সত্যি যেকোনো একজন শিশুর জন্য খুব কষ্টকর। কিন্তু হয়ত এই অস্বাভাবিক অবস্থা থাকবে না। তবু আমি তাদেরকে বলবো যে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে।’

 

‘আমার একটাই লক্ষ্য যে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এই দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। ৩০ লাখ শহীদ রক্ত দিয়েছে। দুই লাখ মা-বোন যে অবদান রেখেছে, সেকথা আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। অনেক রক্তের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই স্বাধীনতার সুফল প্রত্যেক মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাবে।‘ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কবি সুকান্তের ভাষায় এটিই বলতে চাই, এই বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার।’

 

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের আগে শহিদ শেখ রাসেলকে নিয়ে তৈরি এনিমেটেড ডকুমেন্টরি ‘বুবুর দেশ’ প্রদর্শনীর উদ্বোধন, শেখ রাসেলের জীবনীর ওপর প্রকাশিত বই ‘শেখ রাসেল আমাদের আবেগ, আমাদের ভালবাসা’ এর মোড়ক উন্মোচন ও ছবি প্রদর্শনীর উদ্বোধন; ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহিদ শেখ রাসেলের ‘ম্যুরাল’ উন্মোচন ও ‘শহিদ শেখ রাসেল ভবন’ উদ্বোধন; শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কার্যক্রম সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র অবলোকন ‘স্মৃতির পাতায় শেখ রাসেল’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *