Home প্রধান খবর ডা. মুরাদের সেই অডিও সরাতে হাইকোর্টে ব্যারিস্টার সুমন

ডা. মুরাদের সেই অডিও সরাতে হাইকোর্টে ব্যারিস্টার সুমন

0
169

নজর২৪, ঢাকা- সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের সেই অশ্লীল অডিও-ভিডিও অপসারণ করতে আদালতের দারস্থ হয়েছেন ব্যারিস্টার সুমন।

 

মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে বিষয়টি আনেন ব্যারিস্টার সুমন।

 

ব্যারিস্টার ‍সুমন আদালতে বলেন, জরুরিভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অশ্লীল অডিও-ভিডিওগুলো অপসারণ করা প্রয়োজন। অপসারণ না করলে অল্প বয়সের ছেলেমেয়েরা এই ধরনের গালাগালি এবং অশ্লীল কথা বার্তা শুনে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বে। তাই প্রতিমন্ত্রীর অশ্লীল অডিও-ভিডিও দ্রুত সরাতে বিটিআরসির প্রতি নির্দেশনা প্রার্থনা করছি।

 

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে আগে বিষয়টি শুনানি। কিন্তু ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আদালতে না আসায় এ বিষয়ে কোনো আদেশ হয়নি।

 

এর আগে সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে ফেসবুক লাইভে এসে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান কয়েকদিন ধরে টানা নারীদেরকে নিয়ে অশ্লীল কথা বলে যাচ্ছিলেন। এমনকি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও মন্তব্য করেছেন। উনার ভাইরাল হওয়া ভিডিও একটিও সত্য হলে তার কোনো পদে থাকার অধিকার নেই। তিনি একজন সম্মানিত লোকের সন্তান। আমরা তার বাবাকে শ্রদ্ধা করি।

 

তিনি বলেন, খবর পেলাম একটু আগে তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। এই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। এর মাধ্যমে প্রমাণ হলো, ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না।’

 

উল্লেখ্য, মুরাদ প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০০৮ সালে। তবে তার আসন ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরেরবার নৌকা আবার প্রার্থী দেয় আর জিতে আসেন মুরাদ।

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মুরাদকে প্রথমে করা হয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। রাজধানীর একটি অভিজাত হাসপাতালে একটি ঘটনায় তার দপ্তর বদল করে করা হয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তবে মন্ত্রিসভা ও দলে তার অবস্থান বেশ সংহতই ছিল।

 

আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখা সিআরআইএ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা সম্প্রতি ৭২ এর সংবিধানে ফিরে গিয়ে রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের দাবি তোলেন। তার এই দাবি সেক্যুলার রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের মধ্যে জনপ্রিয়ও হয়।

 

তবে তিনি সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে এসে যে ভাষায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তার নাতনি জাইমা রহমানকে আক্রমণ করেন, সেটিতে নিন্দার ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে অশালীন ভাষায় ঘায়েল করার এই চেষ্টার পর প্রতিবাদ জানায় বিএনপি। নারী নেত্রীরাও এর সমালোচনা করেন। তিনি এই ধরনের বক্তব্য দিয়েও কীভাবে মন্ত্রিসভায় থাকেন, সেই প্রশ্ন তোলে বিভিন্ন নারীবাদী সংগঠন।

 

এর মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর কাছে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চান, তিনি দুঃখ প্রকাশ করবেন কি না। জবাবে মুরাদ বলেন, তিনি বক্তব্যে অটল আর রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সমালোচনাকে গা করছেন না।

 

এর মধ্যে ফেসবুকে একটি ফোন রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে, যাতে পুরুষ কণ্ঠের একজন মুরাদ হাসান বলে চিহ্নিত হন। তিনি একজন চিত্রনায়িকাকে তার কাছে যেতে বলেন। না গেলে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তুলে নেয়ার হুমকি দেন। আর সেই নায়িকাকে ধ র্ষ ণ করার ইচ্ছাও পোষণ করেন।

 

এর আগে আরও একটি অনলাইন সাক্ষাৎকারে মুরাদ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেত্রীদের নিয়েও করেন আপত্তিকর মন্তব্য। এসব ঘটনায় ঘরে-বাইরে সব জায়গায় অবস্থান হারান তিনি।

 

এসব ঘটনায় সোমবার রাতে মুরাদকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জানান, মঙ্গলবারের মধ্যেই তাকে পদত্যাগ করতে হবে।

 

এর মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করে মুরাদের শাস্তির দাবিতে। নেতারা বলেন, কেবল মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ নয়, মুরাদকে ক্ষমা চাইতে হবে, নইলে তিনি পার পাবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here