অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

নজর২৪, ঢাকা- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এমন একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান তিনি যেখানে থাকবে না কোনো অবিচার, থাকবে না কোনো অন্যায়।

 

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সোমবার শেখ রাসেল দিবস ২০২১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন সরকার প্রধান।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এদেশটা আমাদের। এদেশটা আমরা গড়ে তুলতে চাই একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায়। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে দেশে কোনো অন্যায় থাকবে না; অবিচার থাকবে না। মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে।’

 

দেশের প্রতিটি শিশুর জীবন অর্থবহ করে তোলা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, শেখ রাসেলের মতো আর কোনো শিশুকে যেন অকালে প্রাণ দিতে না হয়।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশে প্রত্যেক শিশুর জীবন অর্থবহ হবে। এভাবে অকালে ঝড়ে যাবে এটা চাই না। বাংলাদেশে যাতে এ ধরনের আর কোনো ঘটনা না ঘটে। আমাদের দেশের শিশুরা একটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠবে। প্রতিভা বিকশিত হোক।

 

তিনি বলেন, একজন শিশুকে হত্যা মানেই লাখো-কোটি শিশুর জীবনে একটা আশঙ্কা এসে যায়। স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা দেখেছি যে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এদেশের যেভাবে গণহত্যা চালিয়েছিল। তারাও কিন্তু শিশুদের রেহাই দেয়নি। ছোট্ট নবজাতক শিশুকেও তারা হত্যা করেছে। এমন কী মায়ের পেটের শিশুকেও হত্যা করেছে। আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা দেখেছি ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনের পর। বিএনপি-জামায়াত একই কায়দায়, ঠিক যেন পাকিস্তান হানাদার বাহিনী যেভাবে গণহত্যা চালিয়েছিল ওই ভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পচাত্তরের পনেরোই আগস্টের পরে কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এই সেনাবাহিনীতে ১৯ বার ক্যু হয়েছে। একটা সেনাবাহিনীতে যদি ১৯ বার ক্যু হয় সেই সেনাবাহিনীতে ডিসিপ্লিন আছে বলে এটা কেউ দাবি করতে পারে না। আর এই একেকটা ক্যু ধরে ধরে হাজার হাজার সৈনিক অফিসার হত্যা করা হয়েছে। অনেকের পরিবার লাশও পায়নি। সেই সাথে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর। তাদের দিনের পর দিন ধরে নির্যাতন করা হয়েছে। আবার ঠিক সেই ঘটনা আমরা দেখেছি।

 

তিনি বলেন, পচাত্তরের পর বার বার এসেছে এই ধরনের অত্যাচার। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর আবারও সেই একই ঘটনা। এর পর অগ্নি সন্ত্রাস থেকে শুরু করে কতভাবে মানুষকে হত্যা করেছে। বাসে আগুন দিয়েছে। শিশু পুড়ে মারা গিয়েছে। এই ঘটনাও আমরা বাংলাদেশে দেখেছি। কিন্তু আমরা তো এ রকম চাই না। আমরা চাই বাংলাদেশ একটা শান্তিপূর্ণ দেশ হবে। প্রত্যেকটা শিশুর জীবন অর্থবহ হবে, সুন্দর হবে। এভাবে অকালে ঝড়ে যাবে সেটা আমরা চাই না। একটি ফুল পূর্ণাঙ্গভাবে ফোটার আগে অকালে ঝড়ে যাক এটা কারো আকাঙ্ক্ষা নয়। এটা কেউ চায় না।

 

সরকার প্রধান বলেন, পচাত্তরের পর শুধু হত্যা না, সাথে সাথে ইতিহাসকেও মুছে ফেলা হয়েছিল। আমাদের অনেক প্রজন্ম জানতেই পারে না যে সেখানে কত জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, কীভাবে হত্যা করা হয়েছে বা একাত্তর সালে কীভাবে গণহত্যা হয়েছিল আমাদের দেশে।

 

শেখ হাসিনা বলেন, এই বাংলাদেশে প্রথম ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশু নিরাপত্তার জন্য আইন করে দিয়ে যান। কী দুর্ভাগ্য আমাদের ঘাতকের হাতে তারই সন্তানদের হত্যার শিকার হতে হয়। বাংলাদেশে যেন আর এই ধরনের কোনো ঘটনা ভবিষ্যতে না ঘটে সেটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা, সেটাই আমরা চাই।

 

শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যদি জিজ্ঞেস করতো তুমি (রাসেল) কি হবে? বলতো, আমি আর্মি হব। আর্মি অফিসার হবে এটাই তার জীবনের স্বপ্ন ছিল। কামালও মুক্তিযুদ্ধ করে ট্রেনিং নেয়। সেনা সদস্য ছিল, পড়ে রিজাইন করে। যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো, পড়াশোনা শেষ করতে সে চলে আসে। জামাল সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়।

 

‘রাসেলেরও সেই আকাঙ্ক্ষা ছিল। তার সে স্বপ্ন কিন্তু আর পূরণ হয়নি। আজকে হয়তো বেঁচে থাকলে সেনাবাহিনীর একজন অফিসার হতে পারত, কিন্তু সেটা আর হতে পারল না।’

 

১০ বছরের রাসেলকে কেন হত্যা করা হলো তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কারো জীবনে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে। একজন শিশুকে হত্যা মানে লাখো শিশুর জীবনে আশঙ্কা এসে যায়। আমার একটাই প্রশ্ন আসে, কেন? এই শিশুটির কি অপরাধ ছিল? আমার বাবার কি অপরাধ ছিল? বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে এজন্য?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *