Home খেলাধুলা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয় বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয় বাংলাদেশের

0
85

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- পরিসংখ্যান বা মাঠের পারফরম্যান্স- সব দিক থেকে তারুণ্যনির্ভর এই শ্রীলঙ্কা দলের চেয়ে ঢের এগিয়ে থেকে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ দল। মাঠের লড়াইয়েও তার ছাপ স্পষ্ট। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। বৃষ্টি আইনে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে লঙ্কানদের হারিয়েছে ১০৩ রানে। এই জয়ের সুবাদে বিশ্বকাপ সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলেরও শীর্ষে উঠে গেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

 

মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুতে হোঁচট খেলেও মাঝের প্রতিরোধে নির্ধারিত ওভারের ১১ বল বাকি থাকতে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রান করে টাইগাররা। জবাবে ব্যাট করতে এসে সুবিধা করতে পারেনি লঙ্কানরা। তার ওপর বৃষ্টি আইনে খেলা ৪০ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। টার্গেট ২৪৫ হলেও নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান করে সফরকারীরা। ১০৩ রানের বিশাল জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের।

 

লক্ষ্য তাড়া করতে এসে ভালোই এগোচ্ছিল লঙ্কানরা। তবে উদ্বোধনী জুটিতে বেশিদূর এগোতে দেননি অভিষিক্ত পেসার শরিফুল ইসলাম। পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে লঙ্কান অধিনায়ক কুশল পেরেরাকে তামিমের তালুবন্দি করেন তিনি। ১৫ বলে ১৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন পেরেরা।

 

উইকেট হারিয়েও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন ওপেনার গুনাথিকালাকা ও নতুন ব্যাটসম্যান নিশাঙ্কা। তবে গুনাথিকালাকাকে ফিরিয়ে তাদের ২৯ রানের জুটি ভেঙে টাইগার শিবিরে স্বস্তি এনে দেন মুস্তাফিজ। ২ চারে ৪৬ বলে ২৪ রান করে সাকিবের তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। এরপর আবারও চিন্তা বাড়াতে শুরু করেন নিশাঙ্কা। তবে তাকেও বেশিদূর যেতে দেননি সাকিব। ৩৬ বলে ২০ রান করা নিশাঙ্কাকে তামিমের তালুবন্দি করে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি।

 

২১তম ওভারের তৃতীয় বলে কুশল মেন্ডিসকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান মেহেদি হাসান মিরাজ। আগের ম্যাচে চার উইকেট পাওয়া মিরাজের এটি প্রথম শিকার। খানিক পরই ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান সাকিব। ১০৪ রানের মাথায় দাশুন সানাঙ্কাকে মাহমুদউল্লার তালুবন্দী করে সাজঘরে ফেরান মিরাজ। এরপর আগের ম্যাচে ৭৪ রান করা ভানিন্দু হাসারাঙ্গাকেও সাজঘরে ফেরান মিরাজ।

 

একের পর এক উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়া লঙ্কানদের রক্ষা করতে পারেননি আশেন বানদারা। তাকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন মুস্তাফিজুর রহমান। ১২২ রানের মাথায় সান্দাকানকেও তামিমের তালুবন্দি করে ফেরান মুস্তাফিজ। তামিমের তৃতীয় ক্যাচে মুস্তাফিজের তৃতীয় শিকার হন তিনি। খানিক পরই বৃষ্টি আসায় জয়ের উল্লাসে মেতে উঠতে একটু বেগ পেতে হয় টাইগারদের। তবে বৃষ্টি থামার কিছু সময় পরই খেলা গড়ায় ৪০ ওভারে, টার্গেট দাঁড়ায় ২৪৫ এ, লঙ্কানদের প্রয়োজন ছিল ২ ওভারে ১১৯ রান। অসম্ভব এই রান মোকাবেলা তো দূরে থাক নির্ধারিত ওভারে ১৪১ রানের থামে লঙ্কানদের ইনিংসের গতি।

 

টাইগারদের হয়ে খুব কৃপণতার সঙ্গে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট শিকার করেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও মুস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া সাকিব আল হাসান দুটি ও অভিষিক্ত শরিফুল ইসলাম ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট শিকার করেন।

 

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে এসে চরম ব্যাটিং বিপর্যয় পড়ে বাংলাদেশ। তবে মিডল অর্ডারে এসে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। মুশফিকের অনবধ্য ১২৫ রানের ইনিংসে ভর করে ১১ বল বাকি থাকতে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রান করে বাংলাদেশ। লঙ্কানদের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট শিকার করেন দুশমন্থ চামিরা ও লাকশান সান্দাকান।

 

ম্যাচসেরা মুশফিক
বাংলাদেশ–শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ম্যাচসেরা হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ১০ চারে ১২৭ বলে ১২৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। বাংলাদেশের ইনিংস মূলত একাই টেনেছেন মুশফিক। ম্যাচসেরা হয়ে তিনি বলেন, ‘জয় সব সময়ই বিশেষ কিছু আর জয়ে অবদান রাখতে পারলে ভালো লাগে। তবে খারাপ লেগেছে যে শেষ করে আসতে পারিনি, ১১ বল বাকি ছিল। আমরা দ্রুত কিছু উইকেট হারায়, নতুন বলে এমন হয়। তবে আজ রাতে আমাদের বোলিং ছিল বিশেষ কিছু।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here