Home প্রধান খবর হেফাজতকে ‘জঙ্গি সংগঠন’ ঘোষণা করে নিষিদ্ধের দাবি ৫৫১ আলেমের

হেফাজতকে ‘জঙ্গি সংগঠন’ ঘোষণা করে নিষিদ্ধের দাবি ৫৫১ আলেমের

0
65

নজর২৪ ডেস্ক- হেফাজতে ইসলামকে ‘উগ্র জঙ্গি সংগঠন’ আখ্যায়িত করে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশ। একইসঙ্গে দেশে প্রচলিত শিক্ষা আইন বা নীতিমালা বিরোধী কওমি প্রতিষ্ঠান এবং বোর্ডগুলোর ওপর পরিপূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিও তাদের।

 

শনিবার (২৪ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তি পাঠায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত । সংগঠনের শীর্ষ ৫৫১ আলেম এ বিবৃতি দিয়েছেন।

 

আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস কাজী মুহাম্মদ মুঈনুদ্দীন আশরাফী ও মহাসচিব সৈয়দ মছিহুদ্দৌলাহ স্বাক্ষরিত বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এভাবে ইসলামের নামে সামাজিক অনাচারে যুক্ত হওয়া, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা এবং জানমালের ক্ষতিসাধন করা ইসলাম সমর্থন করে না। এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা সংগঠনের কাছে দেশ-মিল্লাত-মাযহাব কখনো নিরাপদ নয়।’

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০১০ সালে হেফাজতের জন্মের পর হতেই তারা সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। কখনও ইসলাম প্রচারক আল্লাহর ওলিদের মাজার খানকাহ শরীফ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি আবার কখনও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সুফিবাদি জনতাকে প্রকাশ্যে হামলার হুমকি দিয়ে তারা এদেশে উগ্র জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাদের সঙ্গে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের দূরতম সম্পর্কও নেই।

 

ইসলাম হেফাজতের নামে উগ্র হেফাজতিদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের উচ্চ বিলাস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে গোটা আলেম সমাজ আজ লজ্জিত হয়েছে। আহলে সুন্নাত নেতারা দেশবাসীকে আলেম লেবাসধারী এ জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহবান জানায়।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তিভিত্তিক বিয়ের নামে অনাচার ইসলামে হারাম। দোষীদের জন্য ইসলামে রয়েছে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা। ইসলামে নারী-পুরুষে বন্ধনের বৈধ পন্থা হল বিয়ে। বিবাহের বিপরীতে চুক্তিভিত্তিক সাময়িক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা সম্পূর্ণ হারাম ও ইসলামের দৃষ্টিতে তা শাস্তিমূলক অপরাধ।

 

বর্তমানে ইসলাম রক্ষার কথা বলে হেফাজতের কিছু চিহ্নিত দায়িত্বশীল নেতা হাজার বছর ধরে প্রচলিত ইসলামের মৌলিক বিধানের ওপর হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। শরীয়তের বিধান পাল্টে দিয়ে চুক্তিভিত্তিক সাময়িক বিয়ের প্রবর্তন করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। যা সমাজে অবাধ অনাচার, যৌনাচার ও যুবসমাজকে বিকৃত পথে চলতে উৎসাহ দিবে। হেফাজতের তথাকথিত দায়িত্বশীল মূলত নিজের কৃত জঘন্য অপরাধ ঢাকতেই ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কখনো মানবিক বিয়ে বা কখনো চুক্তিভিত্তিক বিয়ের কথা বলে নিজেকে রক্ষা করতে চাইলেও সবকিছু বিবেচনা ও পর্যবেক্ষণ করে শরয়ী ফয়সালা হল- ইসলামে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে হারাম।

 

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ অছিয়র রহমান, শাইখুল হাদিস সোলাইমান আনসারী, অধ্যক্ষ মুফতি আব্দুল বারী জিহাদি, এম এ মান্নান, অধ্যক্ষ নুরুল আলম হেজাজী, মুফতি কাজী আব্দুল ওয়াজেদ, এম এ মতিন, অধ্যক্ষ মুফতি কাজী হারুনুর রশীদ, শাইখুল হাদিস আশরাফুজ্জমান কাদেরি, অধ্যক্ষ স উ ম আবদুস সামাদ, অধ্যক্ষ মুখতার আহমদ, শাইখুল হাদিস ড. আফজাল হোসাইন, অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম রেজভী, অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান, অধ্যক্ষ মুফতি আহমদ হোসাইন কাদেরী প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here