সর্বশেষ সংবাদ

পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে রাজনীতি করি: মির্জা ফখরুল

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অশালীন ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে আক্রমণ করেছেন অভিযোগ তুলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অযথা বেশি ঘাঁটাবেন না। কাদা থেকে কেঁচো বেরিয়ে আসে। আপনারা কী করেন গোটা বাংলাদেশের মানুষ জানে। কীভাবে অর্থ উপার্জন করেন, সবাই জানে।

ফখরুল আরও বলেন, আমরা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে রাজনীতি করি। আমাদের নেতাকর্মীরা নিজের টাকায় চাঁদা দিয়ে সমাবেশ করছে। আর আপনারা (আওয়ামী লীগ) কি করেন এটা সবাই জানানে।

আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিএনপির অঙ্গ দলগুলোর সঙ্গে যৌথ সভা করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, আমি নাকি দুবাই থেকে টাকা পাই, টাকার ওপর ঘুমাই। বেশি ঘাটবেন না, বেশি ঘাটলে কেঁচো বেরিয়ে আসবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ওবায়দুল কাদের খুব আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। সমস্ত রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে তিনি কথাগুলো বলেছেন এবং আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। ব্যক্তিগত আক্রমণ করবেন না। সামাল দিতে পারবেন না। কার কয়টা বাড়ি, কার কত টাকা আছে, সবাই জানেন।

তিনি বলেন, আপনাদের কে কোথায় হাজার হাজার কোটি টাকার বাড়ি করছেন, ব্যাংকের লোন নিয়ে পাচার করে দিচ্ছেন, এসব বাংলাদেশের মানুষ সব খবর রাখে। আপনারা সব সরকারি গাড়ি-টাকা ব্যবহার করে যে লোকজন নিয়ে এলেন, বিশাল নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে, সরকারি জায়গার মধ্যে সেখানেও চেয়ার পর্যন্ত পূর্ণ করতে পারলেন না। ২২ হাজার চেয়ার ছিল। ২২ হাজার চেয়ার যদি পূর্ণ না হয় তাহলে কত লোক হয়েছিল!

তিনি আরও বলেন, আমি কথাটা আলোচনা করতে চাইনি। যেহেতু উনি (ওবায়দুল কাদের) আমার নাম বলেছেন, সেই কারণে কথাগুলো বললাম। আমরা এটা আশা করি না, এত বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকের মুখ থেকে অশালীন ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে আক্রমণ আসবে।

গত ১৫ বছরে অর্থনীতিকে ভাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিচ্ছে, এটা আমার কথা নয় প্রধানমন্ত্রীর কথা।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক অধিকারের কোনো স্পেস নাই, সব নষ্ট করে দিয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। জাতি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, নির্বাচনকালীন ৯০ দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে। এটাকে বাতিল করেছে আওয়ামী লীগ৷ এখন বলে তারা করেনি, আদালত করেছে। টিকে থাকার জন্য তারা জনগণকে বোকা বানাতে চায়।’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এতই যদি আপনারা শক্তিশালী হোন, জনগণের প্রতি আস্থা থাকে তাহলে এত ভয় পান কেন! বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করতে দেন না কেন! কেন আপনারা পরিবহন বন্ধ করে দেন? আপনাদের গুন্ডা লেলিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষ যারা সভায় আসতে চায়, তাদের আঘাত করেন? একটাই কারণ, তারা জানে, গণতন্ত্র যদি ঠিক মতো চলে, জনগণ যদি ভোট দিতে পারে, রাজনৈতিক দলগুলো যদি কাজ করতে পারে তাহলে তারা কোনো দিনই ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবে না।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের নির্বাচনে বাইরের থাবা পড়েছে: সিইসি

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘বাইরের থাবা এসেছে’ মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, দেশের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ বাঁচাতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও...

গণভবনের আশপাশে মোবাইল হারালেন সাকিব আল হাসান

গণভবনের আশপাশের এলাকায় নিজের মোবাইল ফোন হারিয়েছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। এ ঘটনায় ডিএমপির শেরে বাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন তিনি। রোববার (২৬...

সেরা পঠিত