নারায়ণগঞ্জে নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৫ হাজার সদস্য

নজর২৪ ডেস্ক- আর মাত্র একদিন পরেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নাসিক নির্বাচনে ১৯২টি ভোটকেন্দ্রে ও কেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

প্রতি কেন্দ্রে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২৬ সদস্য। থাকবে পুলিশ ও র‌্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স। যেকোনো অপ্রীতিকর অবস্থা তৈরি হওয়ার আগেই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকবেন।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে আদালাভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই, সবগুলো কেন্দ্রকেই বিশেষ বিবেচনায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাহফুজা আক্তার বলেন, ১৯২টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে একজন এসআইয়ের নেতৃতে থাকবেন পাঁচজন করে পুলিশ সদস্য। এছাড়াও আটজন পুরুষ ও চারজন নারী আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

তিনি আরও বলেন, নাসিক নির্বাচনে পুলিশের ২৭টি ইউনিট স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। এছাড়াও পুলিশের মোবাইল টিম থাকবে ৬৪টি, প্রতি টিমে সদস্য থাকবেন পাঁচজন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৪ প্লাটুন সদস্য থাকবে। আরও অতিরিক্ত ৬ প্লাটুনের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক চাহিদা পাঠিয়েছেন বলেও জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, নাসিক নির্বাচনে র‌্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে ৩টি, চেকপোস্ট থাকবে ৬টি, টহল টিম থাকবে ৭টি ও স্ট্যাটিক টিম থাকবে ২টি।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই, নির্বাচন ঘিরে কোনো প্রার্থীর নেতা-কর্মী বা সমর্থকদের গ্রেপ্তার বা কোনো ধরনের হয়রানি করা হয়নি। আমরা শুধু রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে কাজ করছি। যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত এবং যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে, শুধু তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে অথবা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটির তৃতীয় নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম ছাড়াও আরও পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে রয়েছেন ৩২ জন। প্রায় ২০ লাখ মানুষের এ সিটিতে ভোটার ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৭ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৯ আর পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৪ জন।

তবে এই নির্বাচনে মেয়র পদে আলোচনায় আছেন মূলত দুজন প্রার্থী। একদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। তৈমূর ২০১১ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে লড়েছিলেন। কিন্তু এবার বিএনপি নির্বাচনের অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তিনি। যদিও এরপর তাকে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

ধারণা করা হচ্ছে, রোববার এই দুইয়ে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তবে ভোটের প্রচারে এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রচারে দেখা যায়নি কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি কিংবা কটু আক্রমণ।

ভোটের মাঠে দেখা গেছে, নৌকার প্রার্থী আইভী বরাবরই তৈমূরকে ‘কাকা’ বলে সম্বোধন করেছেন। বিপরীতে আইভীকে ‘ভাতিজি’ বলেই ডেকেছেন তৈমূর।

মৌখিক কিছু অভিযোগ একে অন্যের বিরুদ্ধে এনেছেন, কিন্তু সেটা নির্বাচনি পরিবেশকে কোনোভাবে কলুষিত করেনি।

আরও পড়ুন