সর্বশেষ সংবাদ

কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ ছাত্র বহিষ্কার

নজর২৪ ডেস্ক- মানসিক নি’র্যাতনে এক শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ ৯ জন ছাত্রকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

কুয়েটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মনোজ কুমার মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজ দেখে শিক্ষকের সঙ্গে ওই ৯ ছাত্রের অসদাচরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা হলেন সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী সাদমান নাহিয়ান সেজান, সিই বিভাগের শিক্ষার্থী তাহামিদুল হক ইশরাক, এলই বিভাগের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব, এলই বিভাগের শিক্ষার্থী আ স ম রাগিব আহসান মুন্না, সিই বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান, এমই বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান, সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজ খান নিলয়, এমই বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ রিফাত ও এমএসই বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান অন্তু।

 

প্রসঙ্গত, গত ৩০ নভেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের সঙ্গে ছাত্রলীগের কয়েকজন খারাপ ব্যবহার করেন। এমনকি তাকে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। পরে বাসায় ফিরে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার।

 

কুয়েটের ছাত্র ও শিক্ষকরা জানান, কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের মনোনীত ছাত্রকে লালন শাহ হলের ডিসেম্বর মাসের ডাইনিং ম্যানেজার করার জন্য প্রভোস্ট ড. সেলিমকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার দুপুরে তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ছাত্র ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা করা শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তড়িৎ কৌশল ভবনে তার কক্ষে প্রবেশ করে আবারও চাপ প্রয়োগ করেন।

 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স ও ইলেট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে বের হচ্ছিলেন অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেন। রাস্তায় কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সিজানের নেতৃত্বে কয়েক শিক্ষার্থী তার পথরোধ করে বিভাগের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে বাগবিতণ্ডা হয়।

 

পরে বাসায় ফিরে বুকে ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনকে কুয়েট মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

 

অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর শুক্রবার কুয়েট বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

 

এদিকে শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে শুক্রবার ৫ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করেছে কুয়েট কর্তৃপক্ষ। নতুন কমিটিতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি এবং গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আলহাজ উদ্দিনকে সদস্য সচিব করা হয়।

 

এছাড়া সদস্য করা হয় কুয়েটের অধ্যাপক ড. খন্দকার মাহবুব, খুলনা জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের একজন প্রতিনিধিকে। তদন্ত কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

রাতে ট্রেনে শুতে পারলে বেশি মজা লাগে: রচনা ব্যানার্জি

নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ট্রেনভ্রমণ নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে গেলেন টলিউড অভিনেত্রী ও ভারতের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে তৃণমূল কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী রচনা ব্যানার্জি। তিনি জানান,...

১৫ বছরের স্কুলছাত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, শিক্ষিকা গর্ভবতী

যুক্তরাজ্যের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকা এক ছাত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। শুধু তাই নয়, এ সময় তিনি অন্য আরেক ছাত্রের সঙ্গে শারীরিক...

সেরা পঠিত