সর্বশেষ সংবাদ

নার্সারী করে মীরসরাইয়ের বেকাররা হচ্ছেন স্বাবলম্বী

রাজিব মজুমদার, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: মীরসরাইয়ে বিভিন্ন ফলদ, বনজ, ঔষধি, ফুল ও কাঠের গাছের চারার নার্সারী করে অনেক বেকার স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

 

ওইসব নার্সারীর মালিকরা নিজেরা আর্থিকভাবে লাভের পাশাপাশি একদিকে তৈরি করছেন অন্যের কর্মসংস্থান। পাশাপাশি তাদের এই উদ্যোগ এলাকায় বনায়নসহ জলবায়ু পরির্বতনের কুপ্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত করায় রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। নার্সারী উদ্যোক্তাদের এই কাজকে উৎসাহিত করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং কৃষিবিভাগও গ্রহণ করছে নানা উদ্যোগ।

 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মীরসরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠেছে প্রায় অর্ধশত বিভিন্ন ফলদ, বনজ, ঔষধি, ফুল ও কাঠের চারার নার্সারী। অল্পপুঁজিতে নিজস্ব এবং ভাড়া নেওয়া জমিতে ওইসব নার্সারী করে সফল হয়েছেন উদ্যোক্তারা। স্বচ্ছলতা এনেছেন নিজেদের সংসারে। তাদের সফলতা দেখে এলাকার আরো নতুন নতুন লোক নার্সারী ব্যবসায় নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন।

 

ওইসব নার্সারীতে উৎপাদিত হচ্ছে লাখ লাখ গাছের চারা। প্রকারভেদে ওইসব নার্সারীতে মাসে ৫০ থেকে দুই লাখ টাকার চারা বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। আর হাতের কাছে উৎপাদিত হওয়ায় এলাকার লোকজন চারা রোপনে উৎসাহিত হচ্ছেন।

 

মিঠাছরার বনবিথী নার্সারীর মালিক জীবন মজুমদার জানান, অন্যের অধীনস্থ না থেকে নিজে স্বাধীনভাবে ব্যবসা করার প্রয়াসে ১৯৯৮ সালে এই নার্সারীটি প্রতিষ্ঠা করি। আমরা গড়া নার্সারীটি মীরসরাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড়। ফলদ, বনজ, ফুল ও কাঠের গাছের চারা বিক্রি করে মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করছি। এই টাকা দিয়ে ২টা মেয়েকে মাস্টার্স পর্যন্ত পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছি। ছেলে এখন অনার্সে পড়ছে।

 

জোরারগঞ্জের নার্সারী মালিক মোঃ জাফর বলেন, আগে বেকার ছিলাম এখন নার্সারী করে মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা আয় করছি। এছাড়া গ্রামাঞ্চলে নতুন নতুন বাড়ি নির্মাণে অনেকে ছাদে, বাড়ির উঠোনে সৌন্দর্য বর্ধনে বিভিন্ন গাছের চারা রোপন করছেন। ফলে চাহিদা বেড়েছে নার্সারীর।

 

প্রাকৃতিক ও মানুষ সৃষ্ট কারণে প্রতিবছরই কিছু গাছ নষ্ট হয়। সেই গাছের শূণ্যতা পূরণে নতুন গাছের চারা রোপন করা প্রয়োজন হয়। এইসব নার্সারীগুলো স্থানীয় লোকদের সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে বলে জানালেন মীরসরাই ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন। তার মতে, দেশের বনায়ন বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের তাপমাত্রা বৃদ্ধিরোধে এ নার্সারীগুলোতে উৎপাদিত চারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখানকার বিভিন্ন গাছের চারা নিজেদের বাড়িতে রোপন করতে এই নার্সারীগুলো সহায়তা করছে বলেও তার মতো অনেকের অভিমত।

 

মীরসরাই উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাজী নুরুল আলম জানান, মীরসরাইয়ে বর্তমানে ১৫টির মতো ছোট-বড় বিভিন্ন নার্সারীতে মালিকসহ বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। নার্সারীগুলোকে পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ এবং তাদের উৎসাহিত করতে বৃক্ষ মেলার আয়োজনসহ পুরস্কার প্রদান করে তাদেরকে উৎসাহিত করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

 

নার্সারী খাতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, নার্সারী অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। আগ্রহী নার্সারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নার্সারী করে স্বাবলম্বী হওয়া যাবে। ওইসব প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য কৃষি, যুব উন্নয়ন ও সমাজসেবা থেকে সহজশর্তে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন

তীব্র তাপপ্রবাহে বেঁকে গেছে রেললাইন, ঢালা হচ্ছে পানি

তীব্র তাপপ্রবাহে ঈশ্বরদীতে বেঁকে গেছে রেললাইন। শুক্রবার দুপুরে ঈশ্বরদী বাইপাস রেলওয়ে ষ্টেশনের কাছে রেললাইনের পাত বেঁকে যায়। এতে করে রাজশাহীগামী কপোতাক্ষ ট্রেন প্রায় এক...

মহাসড়কে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করলেন ইউএনও

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: তৈরিকৃত ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ নূরুল আলম। সোমবার (৮ এপ্রিল) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের...

সেরা পঠিত