ঢাকা    ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



জিততে জিততে হেরে গেল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২১

জিততে জিততে হেরে গেল বাংলাদেশ

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- ‘তীরে এসে ডুবলো তরী’-চিরায়ত এই কথাটি যেন সত্যি হয়েছে আজ। এদিন শেষ ওভারে প্রয়োজন ৮ রান। বল হাতে তুলে নিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ব্যাটসম্যান সরফারজ আহমেদ। প্রথম বলটি দিলেন ডট। দ্বিতীয় বলেই মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দিলেন পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যান। আউট হয়ে গেলেন তিনি। পরের বলেই উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যান হায়দার আলি ক্যাচ তুললেন। লং অনে ক্যাচ ধরলেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

 

পরপর দুই বলে দুই উইকেট। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি হলো মাহমুদউল্লাহর। ম্যাচও দারুণ জমে উঠলো। তৈরি হলো রোমাঞ্চ। কিন্তু চতুর্থ বলেই ইফতিখার আহমেদ ছক্কা মেরে দিলেন। হ্যাটট্রিক তো হলোই না। উল্টো ছক্কা খেলেন রিয়াদ। পঞ্চম বলে আবারও উইকেট। এবার ইফতিখার ক্যাচ দিলেন পরিবর্তিত ফিল্ডার ইয়াসির রাব্বির হাতে।

 

শেষ বলে রান লাগবে ২। এক্ষণে দারুণ রোমাঞ্চ জমে উঠলো। রিয়াদ একবার বল করলেন। কিন্তু তার আগেই সরে দাঁড়ালেন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নওয়াজ। আবার রিয়াদ বল করতে এসে মানকাডিংয়ের চেষ্টা করলেন পাকিস্তানের নন-স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যানকে।

 

কিন্তু শেষ বলটিকে আর ঠেকাতে পারলো না বাংলাদেশ। বাউন্ডারি মেরে দিলেন মোহাম্মদ নওয়াজ। ১২৪ রান নিয়েও দারুণ লড়াই করলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। শেষ বলে এসে তারা হারলো ৫ উইকেটের ব্যবধানে। সে সঙ্গে হলো হোয়াইটওয়াশ।

 

৩-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিয়েছে বাবর আজমের দল। এই প্রথম পাকিস্তানের কাছে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। আর সবমিলিয়ে দ্বিতীয়বার। এর আগে শেষ ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল লাল-সবুজের দল।

 

আজ সোমবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৪ রান করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন নাঈম। কিন্তু এই রান করতেই ইনিংসের প্রায় অর্ধেক বল (৫০) খেলেছেন তিনি।

 

১২৫ রান তাড়া করতে শেষ দিকে সমীকরণ কিছুটা কঠিন হলেও সমীকরণ মিলিয়েছে পাকিস্তান। খুব সাবধানী ব্যাটিংয়ে শুরু করে তারা। এই ম্যাচেও অবশ্য থিতু হতে পারেননি অধিনায়ক বাবর আজম। দলীয় ৩২ রানে তাঁকে হারায় পাকিস্তান। অধিনায়কের বিদায়েও জয় পেয়েছে পাকিস্তান।

 

মোহাম্মদ রিজওয়ান ও হায়দার আলীর ব্যাটে চড়ে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায় পাকিস্তান। তাদের ব্যাটিংও কিছুটা মন্থর ছিল। ৪৩ বলে ৪০ রান করেন রিজওয়ান। আর ৩৮ বলে হায়দার করেন ৪৫ রান। শেষ দিকে করেন সরফরাজ করেন ৬ রান, ইফতেখার ৬ রান ও নেওয়াজ করেন ৪ রান।

 

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এই ম্যাচেও টস জিতেছে বাংলাদেশ। বরাবরের মতো টস জিতে নিয়েছে ব্যাটিং। কিন্তু ওপেনিংয়ে এবারও সাফল্য পেল না স্বাগতিকরা।

 

আজ ওপেনিংয়ে নাঈমের সঙ্গে সুযোগ পেয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু এতেও সাফল্য মেলেনি। পাকিস্তান একাদশে অভিষেক হওয়া শাহনওয়াজ দাহানির প্রথম ওভারেই আউট হয়ে যান শান্ত। দাহানির করা ফুল লেংথের বলে ফ্লিক করার চেষ্টা করেন শান্ত। কিন্তু ব্যালেন্স হারিয়ে লাইন মিস করে ফেলেন। ব্যাট ফাঁকি দিয়ে বল চলে যায় স্টাম্পে। ৫ বলে ৫ করে ফেরেন এই ব্যাটার। দলীয় ৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

 

এরপর দ্বিতীয় উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। নাঈম ও শামীম হোসেন মিলে ওই জুটিতে তোলেন ৩০ রান। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষেই বোলিংয়ে এসে সেই জুটি ভেঙে দেন উসমান কাদির। বোলিংয়ে এসেই শামীমকে আউট করেন এই লেগ স্পিনার।

 

সপ্তম ওভারে কাদিরের বলে ছক্কা হাঁকাতে চেয়েছিলেন শামীম। কিন্তু টাইমিং ঠিক ছিল না। বল উপরে উঠে যায়, সহজ ক্যাচ মুঠোয় জমান ইফতেখার আহমেদ। ২৩ বলে চারটি বাউন্ডারিতে ২২ রান করেন শামীম। দলীয় ৩৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

 

শামীম ফিরলে লড়াই জমান কিছুটা আফিফ হোসেন। নাঈমের সঙ্গে গড়েন ৪৩ রানের জুটি। এটিই আজকের সর্বোচ্চ জুটি। ১৫তম ওভারে ওই জুটিও ভাঙেন কাদির। ২০ রান করা আফিফকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান তিনি। এরপর শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে ১২৪ রানের পুঁজি পেতে সাহায্য করেন ওপেনার নাঈম।

 

ওপেনিংয়ে নেমে প্রায় শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলেও তাঁর ব্যাটিং ছিল অস্বস্তির। টি-টোয়েন্টির খেলায় তিনি ছিলেন টেস্ট মেজাজে। ৫০ বলে করেছেন ৪৭ রান। যার মধ্যে ছিল দুটি করে বাউন্ডারি ও ছক্কা। তাঁর ৫০ বলের ইনিংসে ২২টিই ছিল ডট বল। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ করেন ১৩ রান, মেহেদী করেন ৫ ও নুরুল হাসান করেন ৪ রান।