সঙ্কট কাটিয়ে সচল শিল্প খাত

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক- করোনায় সৃষ্ট সঙ্কট কাটিয়ে সচল হয়ে উঠছে দেশের প্রধান প্রধান রফতানি খাত। সরকারের কঠোর নির্দেশনায় প্রতিটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে কার্যকর হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। ফলে শ্রমিকরাও এখন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজাই রেখে কাজে যোগ দিচ্ছেন। সেই সাথে করোনাকালীন ক্ষতি পুশিয়ে নিতে সরকার পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের আর্থিক অনুদান দিচ্ছে।

জানা যায়, টানা লকডাউনে এক ধরণের মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে সতর্ক সবাই। কিন্তু দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ঘর থেকে বের হন জীবিকার তাগিদে। তাদের প্রশ্ন, করোনা থেকে যদি বেঁচে যান, তাহলে ক্ষুধা মেটাবেন কিভাবে। হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, দোকান কর্মচারী সব মিলে অনানুষ্ঠানিক সব খাতে প্রায় ৪ কোটি মানুষ কাজ করছেন। কিন্তু করোনার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছিল সব কিছু। এতে কারখানারসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক কমে গিয়েছিল। বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সাথে সরব হয়ে উঠছে দেশের শিল্প খাত। ফলে গত কয়েক মাস আগে স্থগিত ও বাতিল হওয়া ক্রয়াদেশ ফের চ‚ড়ান্ত হচ্ছে। যা সামগ্রিকভাবে এ খাতটির করোনা ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একাধিক শিল্প মালিক জানায়, এ বছরের মার্চ থেকে দেশে পণ্য রফতানি কমেছে। জুনে অবস্থা তুলনামূলক ভালো হবে বলে আশা করেছিলাম। বাস্তবেও তাই হয়েছে। পতনের হার কমে এসেছে। ক্রেতারাও আগের তুলনায় সক্রিয় হয়েছেন। ফলে ধীরে ধীরে গতি ফিরছে এ খাতে।

করোনার প্রভাবে দেশের শিল্প খাত প্রথমে কাঁচামালের সরবরাহ সঙ্কটে পড়ে। তবে এখন তা কাটিয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে চাহিদা মাথায় রেখে নতুন নতুন ভিন্ন

ধরণের পণ্য তৈরিতে মনোযোগ বাড়াচ্ছে শিল্প কারখানাগুলো। করোনার কারণে অনেক ক্রেতা অর্ডার বাতিল করায় গার্মেন্টসসহ অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের বেতন দিতে পারেনি। অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকরিচ্যুতির ঘটনাও ঘটেছে। তবে বর্তমানে আবার কাজ শুরু হওয়ায় তারা চাকরি ফিরে পেয়েছেন। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ করা অনেক কঠিন। তবুও জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে কাজ করতেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *