তামিমকে নিচে খেলার প্রস্তাব দিইনি: সাকিব

সেমিফাইনাল খেলাটা যেন বাংলাদেশের স্বপ্নেরই এক অংশ। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর থেকে আইসিসির সব বৈশ্বিক আসরে যেন শেষ চারে থাকাটাই বাংলাদেশের লক্ষ্য। এবারের বিশ্বকাপের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগেও একই স্বপ্নের কথা শুনিয়েছিল টাইগাররা। যদিও বিশ্বকাপের তৃতীয় সপ্তাহে এসে সেই স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে বাংলাদেশের জন্য।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচ খেলে ৩ হার বাংলাদেশ দলের। এখনো বাকি রয়েছে টুর্নামেন্টের ৫ ম্যাচ। এখনো সেমির আশা কাগজে কলমে শেষ হয়নি বাংলাদেশের জন্য। পরের পাঁচ ম্যাচ থেকে চার জয় পেলে সেমি অনেকটা নিশ্চিত থাকবে সাকিবদের জন্য।

সেমির এই স্বপ্ন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগে গতকাল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। ভারত বিশ্বকাপে গতকালই প্রথম সাংবাদিকদের সামনে আসায় অনেক প্রশ্ন ছিল তাঁর কাছে। কিছু প্রশ্নের উত্তর তিনি খুব ভালোভাবে দিলেও কিছু ক্ষেত্রে কৌতুক করেছেন। সেসব ছাপিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক জয়ের বার্তা দিয়েছেন। বিশ্বকাপে মুম্বাই থেকে জয়ের ছন্দে ফিরতে চান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নিজেও খেলবেন।

এক প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘৫ ম্যাচ বাকি আছে। যদি এখানে জিততে পারি তাহলে ভালো মোমেন্টাম আসবে। যদিও আমরা খুব বেশি ম্যাচ জিতিনি। পয়েন্ট টেবিল দেখলে মনে হবে না আমরা খুব বেশি বাজে অবস্থায় আছি সত্যি কথা (হাসি)। অন্যান্য দল আমাদের সাহায্য করছে। এখন আমাদের দায়িত্ব আমাদের নিজেদের সাহায্য করা।’

ভারতের মাঠগুলোতে রান বন্যা হচ্ছে প্রতিদিন। তবে এসব উইকেটে ব্যাটারদের চেয়ে বোলারদের দায়িত্বই বেশি দেখেন সাকিব, ‘এমন একটা জায়গায় খেলা হচ্ছে যেখানে বোলাররা ভালো না করলে জেতার সম্ভাবনা খুব কম। এমন জায়গা যেখানে বোলাররাই জেতাতে পারে ম্যাচ অনেক সময়। এখানে সেটাই হয়ে থাকে। শেষ ম্যাচে অনেক রান হয়েছে আগে, পরে বোলাররা ভালো করেছে। অবশ্যই আমাদের অনেক ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ ম্যাচের মধ্যে ৩ ম্যাচ জিতেছে। ওরা অনেক ভালো অবস্থায় আছে। এর মানে এটাই না যে আমাদের সব শেষ।’

বিশ্বকাপে দল জিতছে না। গত ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে অধিনায়ক হিসেবে দলকে উজ্জীবিত করা কতটা কঠিন?, জানতে চাইলে সাকিব বলেন, প্রথমবার মনে হয় ওয়ানডে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে খেলা হলো না। আমার জন্য আফসোসের বিষয় ছিল। কোনোভাবেই কোনো ক্রিকেটার চান না ম্যাচ মিস করতে। এখানে মিস করাটা আমার জন্য কষ্টকর ছিল। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এসে দলকে খুব বেশি উজ্জীবিত করার দরকার হয় না। এখানে সবারই প্রেরণা আছে। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করছে। দলগতভাবে না পারলেও ব্যক্তিগতভাবে অনেকে মোটামুটি ভালো করেছে। সমন্বিতভাবে হলে আমরা হয়তো আরেকটু ভালো ফল করতে পারতাম।

মিরাজকে ভিন্ন ভিন্ন পজিশনে খেলানোর কারণে প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের কি নিচে ঠেলে দিতে হচ্ছে না?, এমন প্রশ্নে সাকিবের উত্তর, এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের সঙ্গে ১০০ রান করেছিল মিরাজ। তখন থেকেই চিন্তা ছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবারও তাকে ওপরে খেলাব। এ ছাড়া প্রস্তুতি ম্যাচে সে অনেক ভালো ব্যাটিং করেছে। স্বাভাবিকভাবেই ছন্দে থাকায় তাকে ওপরে খেলানো হয়েছে এবং ভালো করেছে। আর বিশেষজ্ঞ ব্যাটাররা নিচের দিকে ব্যাট করছে, আমারও মনে হয়েছে একটু বেশি নিচে ব্যাট করছে। তবে উল্টোভাবে দেখলে তাদের ওপরে খেলানো হলে রান করবে সে গ্যারান্টি নেই। আসলে এগুলো খুবই কঠিন এবং ট্রিকি বিষয়। তবুও আমার মনে হয়, সব ম্যাচেই ২৮০ রান করার সুযোগ ছিল।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরাজকে ওপরে খেলাতেই কি তামিমকে নিচে খেলার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটা কি আপনাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল?, জানতে চাইলে সাকিব সাংবাদিকদের বলেন, মিরাজকে ওপরে খেলানোর পরিকল্পনা আমার ও কোচের। এরপর থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ হলেই মিরাজ ওপরে ব্যাট করবে। সে মুজিব-রশিদকে খুব ভালোভাবে মোকাবিলা করেছে। সেদিক থেকে মিরাজ ওপরে ব্যাট করবে, এটা আমাদের পরিকল্পনা অবশ্যই। তবে তামিমকে নিচে খেলার প্রস্তাব আমরা দিইনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *