ইফতার তদারকিতে মাঠে নামলেন নায়ক ফেরদৌস

রমজান উপলক্ষে ইফতার সামগ্রী প্রস্তুতকারক ব্যবসায়ীদের সচেতন করলেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ। এ সময় তিনি বলেছেন, বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য দরকার। সেই খাদ্য যদি ভেজালযুক্ত হয়, তাহলে মানুষ আরো তাড়াতাড়ি মারা যায়। অনাহারে মানুষ কম মরে, বরং ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষ বেশি মারা যায়। এজন্য আপনাদেরকেই (ব্যবসায়ীদের) খাদ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে।

আজ সোমবার রাজধানীর চকবাজার এলাকার ইফতার বাজার পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। নায়ক ফেরদৌস সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন।

বিএফএসএর অভিযানে ফেরদৌস বলেন, ‘খাবারে যদি রং মেশানো থাকে, ভেজাল থাকে তবে মানুষ সেসব খেয়ে অসুস্থ হয়। রমজানে হাসপাতালগুলোতে গেলেই দেখা যায় প্রচুর রোগীর সমাগম। এগুলো যেন না হয়, সেজন্য এসেছি। চকবাজার বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জায়গা। এই জায়গা ব্যবসায়িক ও নাগরিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে রমজানে প্রচুর মুখরোচক ও ভালো ভালো ইফতার পাওয়া যায়। গত বছর থেকে নিরাপদ খাদ্যের সাথে কাজ করছি।’

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘খাদ্য প্রস্তুত করতে আপনারা পোড়া তেল ব্যবহার করবেন না। এগুলো নিয়ে যাবে বায়ো ফুয়েল তৈরি করার জন্য। আমরা যারা বাসায় নিয়মিত খেতে পারি না, তারা নির্ভর করি আপনাদের হাতে বানানো খাদ্যের ওপর। আপনারাই আমাদের বড় ভরসার জায়গা, তাই আপনাদেরকেই খাদ্যে নিরাপদতা বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় আমরা আপনাদের ওপর আস্থা রাখতে পারব না, তখন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আইনী পদক্ষেপ নেবে, এতে করে আপনারা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।’

এ সময় ফেরদৌস নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কিত যে কোনো জিজ্ঞাসা বা ভেজাল সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ থাকলে ১৬১৫৫ নাম্বারে কল দিয়ে জানানোর পরামর্শ দেন।

এ সময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক ড. সহদেব চন্দ্র সাহা জানান, চকবাজারে তাদের অভিযান ভালো হয়েছে। সবাইকে সচেতন করা হয়েছে, এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে খাবারের ফুড কালার, মূল্য, ভাজা তেল দেওয়া হচ্ছে কিনা, স্বাস্থ্যসচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়গুলো দেখা হয়। এছাড়া চকবাজারের ইফতার বিক্রেতাদের মধ্যে হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্ক বিতরণ করা হয়। অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *