সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: বাবার কবরের পাশে শায়িত হলেন চিকিৎসক বুলবুল। সোমবার সকালে ঢাকা থেকে মরদেহ বহনকারী ফ্রিজিয়ান এ্যাম্বুললেন্সটি রংপুরের রামপুরায় নিজ বাড়িতে আসলে হৃদয় ভেঙে যায় সবার। প্রিয় মানুষের মুকখানা শেষ বারের মত দেখতে ছুটে আসেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
নিহতের ছোট ভাই বুকুল জানিয়েছেন, সকালে বড় ভাইয়ের মরদেহ এসেছে। গোসল করে অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়েছে। বাদ জোহর রামপুরা জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ’র কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে এই হত্যাকান্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ডা. বুলবুলের সহকর্মী ও স্বজনরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানিয়ে সন্তান হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় নেয়াসহ সর্বোচ্চ শাস্তিও দাবি জানান মা বুলবুলি বেগম। তিনি বুলবুলের সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্ব সরকারকে নেয়ার অনুরোধও জানান। এসময় তিনি বুলবুলের সন্তান কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহত ডা. বুলবুলের হত্যাকারীদের শাস্তি ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিবারকে ক্ষতিপুরণের দাবিতে এসএসসি ৯৭ ব্যাচ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। বলেন, দন্ত চিকিৎসক আহমেদ মাহি বুলবুল একজন সামাজিক ও মানবিক মানুষ ছিলেন। শিশুদের নিয়ে কাজ করতেন। ডাঃ বুলবুল দেশের প্রথম শ্রেণির একজন নাগরিক। তার এই নৃশংস হত্যাকান্ডের পিছনে আরো কোন উদ্দেশ্য আছে কিনা, সেটা গুরুত্ব সহকারে ক্ষতিয়ে দেখা উচিত। তার মৃত্যুতে দুটি সন্তান, স্ত্রী-মা সহ পরিবারটি এখন অসহায়। তার পরিবার কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপুরণ দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তারা।
সহকর্মী ডা. মোস্তফা আলম, তৌহিদুর রহমান, রাসেল আনোয়ার, হাফিজার রহমান, কানিজ আফরোজ কণাসহ অনেকেই জানিয়েছেন, অকালে একজন ভালো মানুষ কে হারিয়েছেন। তাদের এসএসসি ৯৭ ব্যাচের সারাদেশের বন্ধুদের দাবি; যেভাবে আওয়ামী লীগ নেতা টিপু হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে একইভাবে ডা. বুলবুল হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে তার পরিবার কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপুরণ দেয়ার দাবিও জানান।
উল্লেখ্য, রোববার ভোরে রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় ছিনতাইকারীর ছুড়িকাঘাতে নিহত হন দন্ত চিকিৎসক বুলবুল।
