নজর২৪ ডেস্ক- গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে দুই থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অনেক কম দামে মোটরসাইকেল অফার করতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম। তাদের অফারের মধ্যে ছিল ‘বিজয় আওয়ার’ ‘স্বাধীনতা আওয়ার’ ‘বিগ বিলিয়ন’। তারা ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার মোটরসাইকেল ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় অফার করতো।
এই অফার পেয়ে ক্রেতারা নগদ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে মোটরসাইকেল অর্ডার করতেন। কিন্তু সময়মতো কিউকম পণ্য সরবরাহ না করায় ক্রেতারা হতাশ হয়ে কিউকমে যোগাযোগ করেন। কিউকম লাভে টাকা ফেরত নেওয়ার অফার করলে ক্রেতারা লোভে পড়ে লাভের অংশ হতে ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে কিউকমের দেওয়া টাকার চেক গ্রহণ করেন। এভাবে কিউকম গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা।
সোমবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, করোনাকালে অনলাইনভিত্তিক ই-কমার্স ব্যবসার দ্রুত প্রসার ঘটায় কিউকম তাদের ব্যবসা শুরু করে। অনেক ক্রেতা কিউকমে মালামাল অর্ডার করে পণ্য না পেয়ে প্রতারিত হয়েছে। এক ভুক্তভোগী কিউকমে মালামাল অর্ডার করে পণ্য না পাওয়ায় তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৪ অক্টোবর পল্টন থানায় একটি মামলা করেন। গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ ওই মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, এই মুহূর্ত কিউকমের ৩৯৭ কোটি টাকা তৃতীয় পক্ষের কাছে জমা আছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিপন জানিয়েছেন।
হাফিজ আক্তার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুন মাসে এসক্রো সিস্টেম চালু করেছে। এই পদ্ধতিতে ক্রেতার টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়ের কাছে জমা থাকে। কিউকমের পে-মেন্ট গেটওয়ে ছিল ফস্টার।
এই পদ্ধতিতে কিউকম ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে দিয়ে চালানসহ ডকুমেন্ট ফস্টারে জমা দিচ্ছিল। পণ্য বুঝে পাওয়ার পর ক্রেতা কিউকমকে টাকা দিত। ক্রেতা পণ্য বুঝে না পেলে ফস্টার কর্তৃপক্ষ কিউকমের টাকা আটকে দেয়। এতে ক্রেতা পণ্য বা টাকা কোনোটিই পায়নি।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেছেন, জমা টাকা থেকে কিউকমের গ্রাহকেরা টাকা ফেরত পেতে পারেন। তবে এর বাইরেও মোটরসাইকেল দেওয়ার কথা বলে কিউকম ২৫০ কোটি টাকা মেরে দিয়েছে বলে রিপন জানিয়েছেন।
ই-কমার্স ব্যবসার নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কিউকম সিইওকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. রিপন মিয়া।
ডিবি জানিয়েছে কিউকমের সিইও গ্রেপ্তারের পর ভুক্তভোগীদের অনেকেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেছেন সৌরভ দে। মামলার এজাহারে তিনিসহ ১৫ জনের নাম ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিউকম থেকে তাঁদের পাওনার পরিমাণ তিন কোটি ৩০ লাখ ৩৯ টাকা।





