আন্তর্জাতিক ডেস্ক- আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর নারীর অধিকারসহ অন্যান্য নাগরিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর অঙ্গীকার থেকে ফের সরে এসেছে তালেবান।
এবার দেশটিতে মেয়ে শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে নতুন ক্ষমতায় বসা কট্টর ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীটি।
শনিবার দেশটিতে শুরু হয়েছে সশরীরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কর্মসূচি। তালেবান সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী এতে অংশ নিয়েছেন ছেলে শিক্ষার্থী ও পুরুষ শিক্ষকরা।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়েদের জন্যে আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হবে শিগগিরই।
এর মধ্য দিয়ে নব্বইয়ের দশকে তালেবানের প্রথম ক্ষমতায় থাকাকালীন কট্টর নারী বিদ্বেষী মনোভাব ফের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চাপিয়ে দেয়ার আতঙ্ক পেয়ে বসেছে সাধারণ জনগণের মনে।
মেয়ে শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকরা দেশটিতে নারী শিক্ষার ভবিষ্যত নিয়েও শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন।
শনিবারের ওই বিবৃতিতে তালেবান শাসকগোষ্ঠী জানায়, সব পুরুষ শিক্ষক ও ছেলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবে। তবে ওই বিবৃতিতে মেয়ে শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের উপস্থিত থাকার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়।
দেশটিতে সাধারণত ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছাত্র-ছাত্রীরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। দেশটির অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলোতে সহশিক্ষার সুযোগ নেই।
তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা স্কুল চালুর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। শিক্ষকদের বিষয়ে আসবে আলাদা ও নতুন নীতিমালা।’
তবে মেয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা তালেবানের এমন প্রতিশ্রুতিকে ফাঁকা বুলি বলে শঙ্কা করছেন।
এক কিশোরী বলেন, ‘আমার শিক্ষাজীবন আর ভবিষ্যত নিয়ে ভীষণ শঙ্কিত আমি।’ এই মেয়ে শিক্ষার্থী আইনজীবী হবার সংকল্প রয়েছে।
ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘ তালেবানের অধীন সবকিছু ভীষণ অন্ধকার আচ্ছন্ন মনে হচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে নিজেকে প্রতিদিন প্রশ্ন করি, কেনইবা আমি বেঁচে রয়েছি। আমার কি বাড়িতে বসে অপেক্ষা করা উচিত যে কখন কেউ দরজায় টোকা দিয়ে আমাকে বিয়ে করতে বলবে? এটাই কী নারী হওয়ার উদ্দেশ?





