নজর২৪ ডেস্ক- টানা বর্ষণে আবার ডুবল চট্টগ্রাম নগরী। আর এতে লকডাউন নয়, এক বৃষ্টিতেই স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো নগরজীবন। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দেশের দ্বিতীয় প্রধান এই মহানগরে।
বুধবার (৩০ জুন) সকাল থেকে কয়েক দফা ভারি বৃষ্টিপাতের পর বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টি চলতেই থাকে। অবিরাম এই বৃষ্টিতে নগরীর অনেক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত জমে গেছে পানি। মাঝরাতে অনেক পরিবারে সবাই যখন ঘুমে, তখন পানি ঢুকে গেছে ঘরের ভেতরে।
গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে ঘরবাড়িও পানিতে থই থই করছে। নগরীর বেশিরভাগ খাল ও নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামারও সুযোগ হচ্ছিল না। অনেক খাল পরিষ্কারই করা হয়নি। তাই বৃষ্টি হলেই পানি উঠে যাচ্ছে ঘরবাড়িতে।
বুধবার (৩০ জুন) বিকেলেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তাতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ। নগরীর হালিশহর, বাকলিয়া, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, কাপাসগোলা, হামজারবাগ, অক্সিজেন, বহদ্দারহাট, চকবাজার, মোহাম্মদপুর, শুলকবহর, আগ্রাবাদ সিডিএসহ আরও বেশকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে।
ওইসব এলাকা হাঁটু পানিতে ডুবে গেছে রাতেই। কোনো কোনো এলাকায় পানি উঠে যায় কোমরসমান। টানা ভারী বৃষ্টি হওয়ায় সেই পানি আর নামেনি। বরাবরের মতোই হালিশহর এলাকা ছাড়াও জলাবদ্ধতার সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছে মুরাদপুর। মুরাদপুর ফ্লাইওভারের নিচে যেন শুধুই পানির বন্যা।
আমিনুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ভারী বৃষ্টিতে রাতে চট্টগ্রাম নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় পানি ছিল, যার ফলে কাজ শেষ করে হাঁটু পরিমাণ পানি দিয়ে বাসায় ফিরতে হয়েছে।
এদিকে বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ভেতরে প্রায় হাঁটু পানি জনে গেছে। এতে রোগী ও স্বজনদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চিকিৎসক-নার্সরাও রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় (সকাল ছয়টা পর্যন্ত) চট্টগ্রামে চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২১৫ দশমিক ৭ মিলিমিটার। আজকেও সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হবে।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার (২ জুলাই) পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আজকে বৃহস্পতিবার তিনটা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে।





