নিজস্ব প্রতিবেদক, নজর২৪- দেশের আলোচিত ইসলামিক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান কোথায় আছে তা প্রশাসন জানে বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর।
সোমবার (১৪ জুন) রাতে ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ দাবি করেন।
ভিপি নুর বলেন, ‘আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান কোথায় আছে এটা প্রশাসন ভালো করে জানে, কারণ বাংলাদেশে যতগুলো গুম হয়েছে তার প্রত্যেকটির সাথেই কোনো না কোনোভাবেই প্রশাসনের লোকজনের সংশ্লিষ্টতা আছে।’
তিনি বলেন, ‘এই সরকারের কাছে অনুনয়-বিনয় করে লাভ নেই। কারণ গত ১২ বছরে যতগুলো গুম খুন হয়েছে, বেশিরভাগগুলোর সাথেই সরকারিবাহিনী তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সেটা নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন থেকে শুরু করে অনেক ঘটনা আমরা দেখেছি।’
নুরুল হক নুর বলেন, ‘তরুণ মাওলানা ত্ব-হা কিংবা অন্য কোনো ইসলামি বক্তা যদি আইনের দৃষ্টিতে কোনো অপরাধ করে থাকেন তাহলে আইনগতভাবেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কিন্তু এইভাবে জলজন্ত মানুষকে গুম করা হবে, জেলে নিয়ে পিটিয়ে মারা হবে এটা কোন বাংলাদেশ।’
আরও পড়ুন-
চারদিনেও হদিস মেলেনি ‘ইসলামী বক্তা’ আবু ত্ব-হা আদনানের
চারদিনেও হদিস মেলেনি আলোচিত ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। রংপুর থেকে ঢাকা আসার পথে তিনি নিখোঁজ হন।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিখোঁজ হবার সময় তার সাথে গাড়িচালকসহ আরো তিনজন সহকর্মী ছিলেন। সেই তিনজন সহকর্মী এবং গাড়িটিরও কোন খোঁজ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করছেন আদনানের পরিবার। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।
আদনানের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে দারুসসালাম এবং মিরপুর থানায় গেলে কোন থানাই সাধারণ ডায়েরি বা মামলা গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করছেন তার পরিবার। এ নিয়ে সর্বশেষ রংপুর সদর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
তবে ঢাকায় পুলিশ বলছে, তিনি ঠিক কোন জায়গা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলেই মামলা নেয়া হয়নি।
আদনানের স্ত্রী সাবেকুন নাহার বলেছেন, আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ২টা ৩৭ মিনিটে তার ( আদনান) সঙ্গে শেষ কথা হয়, তিনি তখন বলেছেন কাছাকাছি চলে আসছেন। উনি তখন গাবতলী ছিলেন। এরপর রাত তিনটা থেকে তার ফোন বন্ধ পাই, এখনো পর্যন্ত নম্বর বন্ধই পাচ্ছি।
মামলা না করার কারণ জানতে চাইলে আদনানের স্ত্রী সাবেকুন নাহার পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কোথায় মামলা করবো, কার কাছে অভিযোগ করবো? মামলা করবো কী, কেউ তো জিডিই নিতে রাজী হচ্ছে না।’
তিনি বলেছেন স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয় নিয়ে শুক্রবার বিকালেই পুলিশের কাছে শরণাপন্ন হন তারা। কিন্তু রোববার বিকাল পর্যন্ত গাবতলী সংলগ্ন দারুসসালাম থানা কিংবা মিরপুর থানা কেউই মামলা গ্রহণ করেনি।
সাবেকুন নাহার অভিযোগ করেন, “থানায় ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। কোন থানাই দায়িত্ব নিচ্ছে না, এক থানা আরেক থানাকে দেখিয়ে দিচ্ছে।” তবে রোববার সকালে রংপুর সদর থানায় এ নিয়ে একটি জিডি করা হয়েছে আদনানের মায়ের পক্ষ থেকে।
৩১ বছর বয়সী আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে ফেসবুক এবং ইউটিউবে অনেকেই তাকে অনুসরণ করেন। এই মুহূর্তে মাওলানা আদনানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে এবং তার সন্ধান চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ বলেন, কোন সাধারণ ডায়েরি বা মামলা গ্রহণ করেননি তারা।
তিনি কারণ হিসেবে বলছেন, “উনি (আদনান) কোথা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন সেই লোকেশনটা তো আমরা নিশ্চিত না। উনি গাবতলী থেকে নিখোঁজ হইছে, সেটা তো আমরা জানি না।
সেক্ষেত্রে যেখান থেকে উনি রওয়া হয়েছেন, সেই রংপুর অথবা উনার ঢাকায় যেখানে বাসা, সেখানে জিডি হতে পারে বা মামলা হতে পারে।”
এখন পুলিশ আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এজন্য পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাহায্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, গাবতলী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে আদনানকে বা তার গাড়ীকে দেখা যায়নি।





