নজর২৪, ঢাকা- করোনার দোহাই দিয়ে কওমি মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধের পাঁয়তারা করা হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি মাওলানা জোনায়েদ আল হাবীব।
শুক্রবার (২ এপ্রিল) বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে হেফাজতে ইসলাম আযোজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সমাবেশে জুনায়েদ আল হাবিব বলে, করোনাভাইরাসের নামে সরকার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মোবাইলে কল করতে যাবেন করোনা, বাসে উঠতে যাবেন করোনা। করোনার অজুহাতে গত বছর আমাদের ঠিকমতো তারাবি পড়তে দেয়া হয় নাই। করোনা দিয়েছেন আল্লাহ, এর জন্য আল্লাহর কাছে বাধা চাইব। এর জন্য নামাজে বাধা দেয়া যাবে না।’
মাদ্রাসা বন্ধ করা যাবে না উল্লেখ করে হেফাজত নেতা বলেন, ‘আজকে করোনার অজুহাত দেখিয়ে মাদ্রাসাগুলো বন্ধের পাঁয়তারা চলছে। মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে কওমি মাদ্রাসা বন্ধের কোনো কথা নাই। পরিষ্কার ভাষায় বলবো যে ১৮ টি শর্ত দেয়া হয়েছে এর মধ্যে কওমি মাদ্রাসার কথা নাই। কিন্তু কিছু অতি উৎসাহী প্রশাসন মাদ্রাসাগুলো বন্ধের পাঁয়তারা করছে।’
ওয়াজ মাহফিল বন্ধের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র একটাই ট্যাবলেট, করোনা।’
করোনা আক্রান্ত রোগীর কাছে গিয়েও নিজে এবং পরিবারের কেউ আক্রান্ত হননি বলেও দাবি করেন জুনাইদ আল হাবিব। বলেন, ‘করোনা হওয়ার পর স্ত্রী পুত্র তাদের পাশে আসে না। ছেলেমেয়েরা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। তার রুমের ভেতরে গিয়েছি, মাথার পাশে বসেছি, মাথায় হাত ভুলিয়ে দিয়েছি, দোয়া করেছি। মাশাআল্লাহ আমার করোনা হয় নাই আমার ফ্যামিলির কারো করুণা হয় নাই।
‘সুতরাং এই অজুহাত দেখিয়ে ইসলামী সম্মেলন তারাবির নামাজ, মাদ্রাসা মসজিদে নামাজ বন্ধের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন না। করলে হেফাজত ইসলাম আবার মাঠে নামবে।’
সভাপতির বক্তব্যে জোনায়েদ আল হাবিব বলেন, ‘পুলিশ বাহিনী রাতে তল্লাশি করে। যাদের ভাই জীবন দিয়েছে তারাই রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারেন না। জামেয়া ইসলামীয়াতে যেই মুক্তাদির চৌধুরী এমপির নেতৃত্বে হামলা হলো, তাকে গ্রেফতার করা হলো না। মুক্তাদির চৌধুরী খুনি। তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।’





