নজর২৪ ডেস্ক- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী সদ্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে স্মরণ করে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘এ এলাকায় মওদুদ আহমদ উন্নয়নের শুভসূচনা করেন। এটি অস্বীকার করার কোনও কারণ নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার (মওদুদ) রাজনৈতিক মতবিরোধ ছিল। এটি আজীবন থাকবে। কিন্তু তিনি এখন মারা গেছেন। তার সাথে এখন আবার কিসের রাজনীতি? যে দেশে গুণীকে সম্মান দেয়া হয় না সেই দেশে গুণী ব্যক্তিদের জন্ম হয় না।’
‘মওদুদ সাহেব ছিলেন একজন গুণী ব্যক্তি। তিনি ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ড. কামাল হোসেনের সহকারী হিসেবে ওকালতি করেছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালের পর সংবিধান প্রণয়নের সাথে জড়িত ছিলেন, তিনি একসময় বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন।’
রবিবার (২১ মার্চ) বিকেলে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে গণমাধ্যমের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় আবদুল কাদের মির্জা এসব কথা বলেন।
মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল মনে করে আমি যদি ভালো কাজগুলো করি তাহলে আমার জনপ্রিয়তা বাড়বে। আমার অবস্থান সৃষ্টি হবে। সকল দলের মাঝে আমার সুনাম বয়ে আনবে। এজন্য ঈর্ষান্বিত হয়ে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে নোয়াখালীতে যারা অপরাজনীতির সাথে জড়িত তারা মওদুদ আহমদকে নিয়ে আয়োজিত শোকসভা করতে দেয়নি।’
কাদের মির্জা জানান, ‘মওদুদ আহমদ বলেছিলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান যদি পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে না আসতেন তাহলে ভারতের মিত্র বাহিনী বাংলাদেশ থেকে কখনও ভারতে ফিরে যেত না। তিনি এসব কথা তার লেখনিতে লিখে গেছেন। মওদুদ আহমদ তার লেখায় বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নেতা। অথচ এ মানুষটি মারা গেছেন। আমাদের রাজনীতি এত সংকীর্ণ হয়ে গেছে যে, আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার নৈতিক দায়িত্বও পালন করতে পারছি না।’
তিনি বলেন, ‘তুমি গোলাপভরা ফুলদানি ভেঙে ফেলতে পার, কিন্তু বাতাস থেকে কখনো ফুলের গন্ধ মুছে ফেলতে পারবে না। সবাই জানে আজকে আমার বিরুদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচার চলছে। আমার নামে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি কে বা কারা খুলেছে আমি জানি না। আমি সবাইকে বলতে চাই এগুলো সব ফেক আইডি।
আমার নামে মাত্র একটি আইডি রয়েছে। যেখানে আমার বিস্তারিত সবকিছু দেয়া আছে। অথচ একটি মহল বলছে যে, আমি নাকি ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে আমার ফেসবুক আইডি থেকে সব মুছে ফেলেছি। কিন্তু এটাই সত্য যে, আমার সাথে ওবায়দুল কাদেরের কোনো যোগাযোগ নেই। ওবায়দুল কাদের সম্পর্কে আমি আর কিছুই বলতে চাই না।’
এসময় কাদের মির্জা আক্ষেপের স্বরে ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘উনি (ওবায়দুল কাদের) যদি আমার ভাই হন, তাহলে আমার রুমে কিভাবে পাঁচশ গুলি করা হয়? উনি (ওবায়দুল কাদের) যদি আমার ভাই হন তাহলে পৌরসভায় কিভাবে দুই হাজার গুলি করা হয়? আমাকে ছয় ছয়বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়? উনি থাকতে কিভাবে হয়? উনি (ওবায়দুল কাদের) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি। এগুলো কার প্ররোচণায় হচ্ছে? তার (ওবায়দুল কাদের) সাথে আমার যোগাযোগের প্রশ্নই আসে না।’
কাদের মির্জা বলেন, ‘আমার নামে ফেক আইডি খুলে অপপ্রচার করা হচ্ছে। এগুলো কার চক্রান্ত এ বিষয়ে আমি পরে বলব। দেশের মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য কারা এগুলো করছে আমরা সব বুঝি। আমরা যে বুঝি না এটা ঠিক না। সবার মনে রাখা উচিত আমি ৪৭ বছর ধরে রাজনীতি করি। জেল-জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছি। উপবাস ছিলাম দলের জন্য। ঈদের দিন পর্যন্ত উপবাস ছিলাম। আজকে কষ্ট লাগে এসব কথা বলতে।
আমার ছেলেগুলোর জামিন হয়নি। অথচ তাদেরগুলোর হয়েছে। আমি আমার কষ্টের কথাগুলো বলি, তাই আমার সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করা হয়েছে। আমার ছেলেগুলোর জামিন বন্ধ করা হয়েছে। আমার ছেলেগুলোর বাড়ি বাড়ি গিয়ে অস্ত্র দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একের পর মামলা দিচ্ছে।’





